রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির স্বাদ পেল বারবাডোজ

রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির স্বাদ পেল বারবাডোজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ব্রিটেনের সঙ্গে ঔপনিবেশিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বারবাডোজ। আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটি এখন প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথকে। পেয়েছে নিজস্ব পতাকা। এর মধ্য দিয়ে ৩৯৬ বছর পরে এসে ক্যারিবীয় দেশটিতে অবসান ঘটল ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের।

গত সোমবার মধ্যরাতের পর রাজধানী ব্রিজটাউনের চেম্বারলিন ব্রিজে নতুন রিপাবলিক বারবাডোজের আনুষ্ঠানিকতা হয়। হিরোস স্কয়ারে ২১ বার তোপধ্বনি এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় চেম্বারলিন ব্রিজে সমবেত হাজার হাজার মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়ে। দেশটির ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস ছিল এদিন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বারবাডোজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সান্দ্রা ম্যাসন। এর আগে দেশটির গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বারবাডোজ নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান।

প্রজাতন্ত্রের পক্ষে জনমত : প্রজাতন্ত্র হিসেবে বারবাডোজের যাত্রা শুরুর আগে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল রাজপরিবারের কাছে। গার্ডিয়ান বলছে, ওই জরিপে দেখা যায়, ক্যারিবীয় দেশটির ৬০ শতাংশ লোকই প্রজাতন্ত্রের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানান। প্রতি ১০ জনে মাত্র ১ জন ছিলেন রানির শাসনে থাকার পক্ষে।

রানির শাসন থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ অবশ্য বারবাডোজে নতুন নয়। ১৯৭০ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বেরিয়ে যায়। এর আগেই ১৯৬৬ সালে ব্রিটেনের থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল বারবাডোজ। সে সময় দেশটির তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী এরোল ব্যারো রানির শাসন থেকে বেরিয়ে আসার আভাস দিয়েছিলেন। এর দীর্ঘদিন পরে এসে গত বছরের ৩০ নভেম্বর স্বাধীনতা দিবসে পাকাপাকিভাবে বারবাডোজ প্রজাতন্ত্র গঠন করার ঘোষণা দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোতেলের সরকার। তবে প্রজাতন্ত্র হলেও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি থাকবে বারবাডোজের।

প্রিন্স চার্লসের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক : ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস। প্রজাতন্ত্র হিসেবে বারবাডোজের যাত্রাকে ‌‌নতুন সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। প্রিন্স চার্লস বলেন, ‌অতীতের অন্ধকার সময় ও দাসত্বের নৃশংসতা থেকে মুক্ত হয়ে বারবাডোজের বাসিন্দারা নিজেদের পথ গড়ে নিয়েছেন।

এদিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রিন্স চার্লসের উপস্থিতি নিয়ে চটেছেন অনেকেই। তাঁরা বলছেন, বারবাডোজের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের মূলে ছিল দাসত্ব। তাই চার্লসের উপস্থিতি বারবাডোজের মানুষের প্রতি একধরনের অপমান।

এ নিয়ে ক্যারাবিয়ান মুভমেন্ট ফর পিস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশনের সাধারণ সম্পাদক ডেভিড ড্যানি সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ব্রিটেনের রাজপরিবার বারবাডোজে দাসত্ব কায়েম করে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়েছিল। তাই মুক্তির এই দিনে রাজপরিবারের কোনো সদস্যের অংশগ্রহণ একেবারেই কাম্য নয়।

ব্রিটেনের রাজা জেমস প্রথম ১৬২৫ সালে বারবাডোজের উপকূলে জাহাজ ভেড়ান। এর দুই বছর পরই দেশটিতে ব্রিটিশ উপনিবেশ গড়ে তোলা হয়। লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক রিচাড ড্রেটন বলেন, সতেরো ও আঠারো শতকের ইংল্যান্ডে ব্যক্তিগত সম্পদের একটি মূল উত্স ছিল বারবাডোজ। সেখানে চিনি ও দাস ব্যবসা করে ইংল্যান্ডের অনেক পরিবার রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে। এসব বিবেচনা করলে সোমবার চার্লসের উপস্থিতি ছিল ক্যারিবীয় দেশটির মানুষের জন্য একটি অপমান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *