পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহাম্মদ ও আহমদ নামের রহস্য বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, জাতীয় শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, মুহাম্মদ নামের অর্থ প্রশংসিত। আহমদ নামের অর্থ প্রশংসাকারী। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের মুহাম্মদ নামের রহস্য হলো, আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টি মাখলুকাতের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, রাসূল সা.-এর মত এতো প্রশংসা তিনি অন্য কোন নবী-রাসূলদের করেন নি। এই জন্য তাঁর নাম মুহাম্মদ রাখা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের মুহাম্মদ নাম রেখেছিলেন তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব। তাঁর নাম মুহাম্মদ এই জন্যে রেখেছি তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত ব্যক্তি হবেন। পৃথিবী থেকে তিনি অন্ধকার দূর করবেন। মানুষকে আলোর দিকে আহ্বান করবেন।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহমদ নামের রহস্য হলো, আসমান জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে, মানুষ, জ্বীন ও ফেরেশতারা মিলেও আল্লাহ তাআলার এতো বেশি প্রশংসা করেননি, যতটা প্রশংসা আল্লাহ তাআলার রাসূল সা.-এক করেছেন। এমনকি হাশরের ময়দানে সিজদায় পড়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আহমদ নাম রেখেছেন তাঁর সম্মানিত মাতা মা আমেনা। হযরত আমেনা বলেন, তাঁর জন্মের কিছুদিন আগে আমি স্বপ্নে দেখি, সাদা পোশাক পরিহিত কেউ একজন আমাকে বলছে, তোমার সন্তানের নাম তুমি আহমদ রাখবে। হযরত ঈসা আ.ও বলেছিলেন, আমার পরে একজন নবী আসবে যার নাম হবে আহমদ।
১৬ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুহাম্মদ ও আহমদ নামের এসব কারণ বর্ণনা করেন।
হাশরের ময়দানে আরশে আজিমের পাশে মাকামে মাহমুদে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আসন হবে উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, হাশরের ময়দানে আরশে পাশে মাকাম মাহমুদ নামে একটি আসন থাকবে। ওই আসনটা রাসূল সা.এর জন্য। কিন্তু রাসূল সা. প্রথম ওই আসনে বসবেন না, এই ভয়ে যদি মাকামে মাহমুদ তাঁকে নিয়ে জান্নাত চলে যায়। জান্নাতে চলে গেলে তাঁর উম্মতের কি হবে এই ভয়ে।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, আসহাবে ফিলের ৫০ অথবা ৫৫ দিন পর সুবহে সাদিকের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেছেন। আসহাবে ফিলের ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে একটি আজিব ঘটনা। আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘর হেফাজত করার জন্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী কে সবচেয়ে ছোট প্রাণী দ্বারা নিঃশেষ করে দিয়েছেন। আসহাবে ফিলের ঘটনাও রাসূল সা.এর জন্মের পূর্বে আলৌকিক ঘটানার একটি বলে জানান তিনি।
সুবহে সাদিকের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মের কারণ বর্ণনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, সুবহে সাদিকে সময় যেভাবে অন্ধকার দূর হয়ে আলো আসে পৃথীবিতে। ঠিক এমনি ভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামও এই পৃথিবী থেকে অন্ধকার দূর করবেন, পৃথিবীকে আলোকিত করবেন। কুফরি দূর করবেন। এই কথা জানান দেয়া জন্য সুবহে সাদিকের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম হয়।
তিনটি বিষয়ে আল্লামা মাসঊদ মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের থেকে ওয়াদা নেন। ১. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফরজ নামাজ আদায় করা। ২. রবিউল আউয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উপর প্রতিদিন ৫০০ বার দরূদ পাঠ করা। ৩. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শানে এই মাসে দান-সদকা করা।
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


