রাস্তা খানাখন্দের বেহাল অবস্থা দূর করুন

রাস্তা খানাখন্দের বেহাল অবস্থা দূর করুন

সড়ক দুর্ঘটনা

রাস্তা খানাখন্দের বেহাল অবস্থা দূর করুন

একদিকে সড়কে খানাখন্দ আবার চালকের অসতর্কতায় প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। সাধারণ যাত্রীর। বেপরোয়া গতি ও চালকের অসতর্কতায় প্রতিদিন সড়কে ঝরছে কত তাজা প্রাণ। প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাতে ও শনিবার একই পরিবারের তিনজনসহ ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়া ও চুয়াডাঙ্গায় দুই বাস কেড়ে নিয়েছে ১৩টি তাজা প্রাণ। তাদের মধ্যে মুক্তাগাছায় ৭ ও চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে ২ জন করে এবং বগুড়া, ঢাকার ধামরাই, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ৩ সদস্য রয়েছেন। গুরুতর জাতীয় এ সমস্যাটি সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। যেন ধরেই নেওয়া হয়েছে, সড়ক-মহাসড়কে মানুষের মৃত্যু প্রতিনিয়তই ঘটবে, কারোর কিছু করার নেই। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার রীতি নেই। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা, জরুরি ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনাহীনতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে দায়ী।

আমাদের দেশে এত বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে কী কী কারণে এবং কোন কোন পদক্ষেপ নিলে দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব- এসবও বহুল আলোচিত বিষয়। অনেক গবেষণা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আছে। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক গবেষণা অনুযায়ী দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। সড়ককে হেলায় ফেলে রাখলে হবে না। কেবল ঈদ চাঁদে সড়ক মেরামত করলেও চলবে না। যেখানে বন্যার পানি নেমে গেছে সেখানেই সড়ক মেরামতের কাজটি দ্রুত করতে হবে।

অন্যথায় সড়কের অবস্থা আরও বেশি খারাপ হবে। সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবা উচিত আমাদের। অন্যথায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কেউ ঠেকাতে পারবে না। হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি সড়ক-মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন তুলে দিতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ভুয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমতে পারে।

সবার আগে চালকদের নিয়ে ভাবা দরকার। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে কোনোভাবেই কোনো গাড়ি তুলে দেওয়া যাবে না। এই সত্য উপলব্ধিটা যত দেরি হবে বুঝতে তত বেশি আমরা ঝুঁকির মধ্যেই থাকবো। আমরা মনে করি, যানবাহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *