পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম ( মুম্বাই) : স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৫১ সাল থেকেই রিজার্ভেশন আদায়ে ভারতে মুসলমানদের সামাজিক, আর্থ সামাজিক, শিক্ষা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য বিপ্লব করে আসতে হচ্ছে। জমিয়তে উলামা হিন্দের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভা ও কনফারেন্সের মাধ্যমে রিজার্ভেশন বিষয়টিকে স্থায়ীভাবে বহাল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে সেই প্রথম থেকেই।
জমিয়তে উলামা হিন্দের সাবেক সভাপতি ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদী মাদানী রহ. রিজার্ভেশন ইস্যুটিকে পরিপূর্ণ গুরুত্বের সাথে দেখেছেন এবং এ ইস্যুতে আন্দোলন করেছেন। সর্বেশেষ এ আন্দোলন সফল হয়েছে। ফলে রাজ্যের অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিম বাংলার মুসলমানরা রিজার্ভেশন পায়।
কিন্তু ভারতে বর্তমান সরকারের সাম্প্রদায়িক রাজ্য শাসন একটা বিরূপ আচরণ করেছে। আদালত শিক্ষা খাতে রিজার্ভেশন মঞ্জুরি দেয়ার পরেও মুসলমানদের রিজার্ভেশন বন্ধ করে দিয়েছে তারা৷ তখন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জমিয়তে উলাম হিন্দ বলেছে, মাযহাবী বৈষম্য সামনে রেখে মুসলমানদের সাথে রিজার্ভেশনের বিবেচনা করছে সরকার। অথচ বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলে মুসলমানদের জন্য ৫ শতাংশ রিজার্ভেশন বরাদ্দ করা হয়েছিল। মুসলমানদের সামাজিক, আর্থ সামাজিক, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য এর বরাদ্দ ছিল।
২০ নভেম্বর জমিয়তে উলামা হিন্দ মহরাষ্ট্র সভাপতি মাওলানা নাদিম সিদ্দিকী তার দপ্তরে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, এবারও যখন রিজার্ভেশনের বরাদ্দের সময় মারাঠিদের জন্য রিজার্ভেশনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার এবং মুসলিম রিজার্ভেশনের ব্যাপারে চুপ থেকেছে। অথচ মুসলমানদের রিজার্ভেশনের জন্য একটি নয় তিনটি কমিটি আদালতের কাছে আবেদন করেছিল। আদালত তা মঞ্জুরও করেছিল। কিন্তু এরপরেও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থকে আইনি নানা জটিলতা দেখিয়ে বিষয়টিকে একটি অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যা মুসলমানদের সঙ্গে প্রকাশ্য দুশমনি এবং জুলুম।
মাওলানা নাদিম সিদ্দিকী আরো বলেন, মুসলমানদের শিক্ষা উন্নয়নে এই রিজার্ভেশনের প্রয়োজন অনেক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতে মুসলমানদের সামাজিক, আর্থ সামাজিক, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। কিন্তু এখনও স্বাধীনতার সেই ৭০ বছর পর এসেও ভারতে মুসলমানদের অবস্থা অাদিবাসী এবং দলিত শ্রেণীর চাইতেও নাজুক ও ভয়াবহ।
বক্তব্যে রিজার্ভেশনের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অামরা এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে আর নিশ্চুপ থাকবো না। আগামী ২৩ নভেম্বর দলীয় সকল সদস্য ও নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে জেলার কালেক্টর ও তহসিল অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে জমিয়তে উলামা মহারাষ্ট্র। সেসময় কমিশনার, কালেক্টর, ডেপুটি কালেক্টর ও তহসিলদার বরাবর একটি স্মারকলিপিও পাঠানো হবে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামজ, দিল্লী


