রূহ্ কী
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : পবিত্র কুরআন থেকে প্রমানিত হয় যে আত্মা বাইরে আসা যাওয়া করে। যে আত্মাকে কবজ করা হয় [অর্থাৎ ধরা হয়] তাকে উঠিয়ে নেয়া হয়। উপরন্তু, আত্মা আপন ঠিকানা থেকে উত্থিত হয়ে থাকে এবং তার জন্যে আসমানসমূহের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয় অথবা বন্ধ করে দেয়া হয়। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে: ‘যদি তুমি দেখতে পেতে, যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে এবং রেফেশ্তাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের কর; তোমরা আল্লাহ্ সম্বন্ধে অন্যায় বলতে ও তাঁর নিদর্শন সম্বন্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, সে জন্য আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে’। [৬:৯৩]
আল্লাহ্ এও বলেছেন যে দেহের মত আত্মাকেও সুঠাম করা হয়েছে। [৮২:৬-৮]
আত্মারও প্রকৃতি আছে এবং তা দেহের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এমন এক ভৌতিক রূপ ধারণ করে, যার মাধ্যমে মানুষ একে অপর থেকে একেকটি পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। আল্লাহ্ বলেন: ‘মহান আল্লাহ্ই আত্মাসমূহকে কব্জ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং সে আত্মাসমূহকেও, যাদের মৃত্যুকাল আসে নি, তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য মৃত্যু অবধারিত করেছেন। তিনি তার প্রাণ রেখে দেন এবং অপরের প্রাণ ফিরিয়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য’। [৩৯:৪২]
রসুল [সা] বলছেন, মুমিনের আত্মা একটি পাখি, যা জান্নাতের গাছপাতা থেকে আহার পায়, যতক্ষণ আল্লাহ্তা’য়ালা তাকে দেহের মধ্যে ফিরিয়ে না আনেন। শহীদদের আত্মাসমূহ ঐ সমস্ত সবুজ পাখির গলায় ঝুলন্ত থলেতে অবস্থান করে যেগুলো জান্নাতের নহরসমূহের উপর দিয়ে উড়াউড়ি করে এবং জান্নাতের ফল খায়।
অথচ যাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে [যেমন ফেরাউনদের] সকাল সন্ধ্যায় তাদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সামনে এবং যে দিন কেয়ামত ঘটবে সে দিন ফেরেশ্তাদের বলা হবে ফেরাউন সম্প্রদায়কে [ও যারা মানুষ হত্যা করে তাদেরকেও] নিক্ষেপ কর কঠিন শাস্তিতে।
আল্লাহ্তা’য়ালা আমাদের শহীদদের সম্বন্ধে বলেছেন [‘ধর্মের পথে’ শহীদ যাহারা] তারা তার কাছে জীবিত রয়েছেন। [৩:১৬৯-১৭১] যারা আল্লাহ্র পথে নিহত হয়েছে অথবা শহীদ হয়েছে, তারা মরে নি, প্রতিপালকের কাছে তারা জীবিত।
আমরা আম্বিয়া কেরাম, সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের কখনও দেহ মোবারক প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাই নি, তাদের জ্ঞানের মধ্যে সত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্য অধিকারী। শুধু জ্ঞান, আর কিছু নয়।
এবার আমি একটি রহস্যপূর্ণ কথার দিকে এগুচ্ছি। যারা তাদের সম্পর্কে দিবা-রাত্র সম্পর্কিত, তা সত্যির মতই। যেন স্বচক্ষে দেখছি। ইমাম সাফিঈ [র] থেকে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত ঘটনার বিবরণ আছে। যারা জানতে চান তাদের জন্যে অবারিত পাঠমালা। ফেরেশ্তা না হলেও এই মানুষরা সেই পর্যায়ে পৌঁছে যান, তাদের জ্ঞানরাশি নিয়ে। জ্ঞান তাদেরকে পৌঁছে দেন সেই সমুদ্রে।
যেতে আগ্রহী?
মু. জা. আ.
১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬


