রেঙ্গার প্রদীপ ছিলেন হযররত আরকান আলী রহ. : আল্লামা মাসঊদ
পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, আওলাদে রাসুল আল্লামা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.’র অন্যতম খলিফা হযরত শায়খ আরকানী রহ. আধ্যাত্মিক জগতের এক পুরোধা পুরুষ ছিলেন। নানা কুসংস্কারে অন্ধকারাচ্ছন্ন রেঙ্গা এলাকায় আলোর প্রদীপ হিসেবে জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার মাধ্যমে পুরো এলাকাকে দ্বীনের আলোয় আলোকিত করেছেন। তাঁর নিষ্ঠা ও ইখলাসের কারণে এই জামেয়া আজ নিজ আলোয় দেদীপ্যমান।
মহান আল্লাহপাকে অনন্য দান ইলমে দ্বীন। আর এই দ্বীনি ইলম অর্জন সবার ভাগ্যে জুটে না। চেষ্টা করলে দুনিয়াবী যেকোনো বিষয়ের জ্ঞানার্জন করা সম্ভব কিন্তু ইলমে দ্বীন চাইলে যে কেউ অর্জন করতে পারে না। যারা দ্বীনের ইলম লাভ করেন, তারা সৌভাগ্যবান। কারণ, এই দ্বীনি ইলম তারাই অর্জন করতে পারে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা মনোনিত করেছেন।
সোমবার বাদ যুহর সিলেটের শীর্ষ ইসলামি বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার মাদানী মসজিদে এক ইসলাহী মাহফিলে সমবেত ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মাসঊদ আরও বলেন, নবুওয়াতী ক্রমধারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নবীদের উত্তরসূরী উলামায়ে কেরাম বিশ্বের বুকে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। কিয়ামত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়ার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহানের সভাপতিত্বে উক্ত ইসলাহী মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার ছানী শায়খুল হাদীস মাওলানা নযীর আহমদ ঝিঙ্গাবাড়ি, মাওলানা এজাজ আহমদ শেওলা, মাওলানা ফখরুল ইসলাম মোগলাবাজারী, মাওলানা মুখলিসুর রহমান রাজাগঞ্জী, মাওলানা জমশেদ আলী গোয়াইনঘাটী, মাওলানা শাহ ইকবাল বিন হাশিম সুনামগঞ্জী, মাওলানা ফজলুর রহমান মাধবপুরী, মাওলানা তালেব উদ্দীন শমসেরনগরী, মাওলানা সদরুদ্দিন মাকনূন, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা আহমদ কবীর খলীল প্রমুখ।
এর আগে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ রোববার (১০ নভেম্বর) বাদ এশা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা মৌলভীবাজার জেলা শাখা আয়োজিত দরগা মহল্লায় ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে ইসলাহী মাহফিলে বলেছেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শানে রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদ, কিয়াম, জশনে জুলুসের আয়োজন করলেই নবীজীকে ভালোবাসা হয়ে যায় না বলে জানিয়েছেন ।
তিনি বলেন, উম্মত প্রেমের মানুষটাকে ভুলে গেছে। পৃথিবীতে নবীজী সা. থেকে এই উম্মতকে কেউ বেশি ভালোবাসেনি এবং কেউ চেষ্টা করলেও নবীজী থেকে বেশি ভালেবাসতে পারবে না। প্রেয়ারে নবীর এত প্রেম, এত ভালোবাসার পরেও আমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ মানি না। তাঁর সুন্নত পালন করি না। তাঁর দেখানো পথে হাঁটি না। কেবলমাত্র জশনে জুলুসের আয়োজন করলেই নবীজীকে ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায় না।


