রোজায় কেমন খাদ্য তালিকা চান?
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহর অশেষ রহমতের বারিধারা প্রবাহিত হয় পবিত্র রমজানুল মোবারকে। এ মাসের বরকতের ছোঁয়া থেকে খালি হয় না আমাদের রুজিরোজগারও। সংযমের মাসে পানাহারের আধিক্য ক্ষতির কারণ। এছাড়া, আমাদের খাদ্য তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনাটা জরুরি। কেননা, নিয়মতান্ত্রিক খাদ্য রুটিন পরিবর্তনের ফলে খাদ্যদ্রব্যে পরিবর্তন করার দ্বারা স্বাস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। চলুন জেনে নেয়া যাক রমজানের খাদ্যদ্রব্য কেমন হওয়া উচিৎ।
১. রোজায় যথাসম্ভব পেট ভর্তি করে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।অধিক খাদ্যগ্রহণ একদিকে স্বাস্থ্যের জন্য যেমনি ক্ষতিকর তেমনি কিডনি, গেটে বাত, পেটে ব্যথা ইত্যাদি রোগের কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ ত্যাগ করার দ্বারা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. সারাদিনের ক্লান্তির ফলে ইফতারে অধিক খাদ্যগ্রহণ ও তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া মুখরোচক খাবারের প্রতি অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। এতে করে পেটের সমস্যা, আলসার, এসিডিটি, দুর্বলতা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই,যথাসাধ্য সহজপ্রাপ্য ও স্বাভাবিক খাবার দ্বারাই ইফতার করা উচিৎ।
৩. যেহেতু এবারের রোজায় তাপমাত্রা অধিক ও প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে তাই শারীরিক অবসাদ দূরীকরণে প্রচুর পরিমাণ পানি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
৪. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ড্রিংক বা খাদ্যের পরিবর্তে প্রাকৃতিক খাবার থেকে এনার্জি গ্রহণ অধিক উত্তম ।
৫. এমাসে চা-কফি পানের মাত্রা কমাতে হবে। ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবারের মতই এগুলো রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে।
৬. রোজার সময় যাদের পেটে সমস্যা দেখা দেয়। তারা ইফতারে দই-চিড়া খেতে পারেন। এতে রয়েছে প্রোবাওটিক। যা গেটে গাট বা ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে।
৭. অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মহিলাদের ও খাবার ব্যালান্স করতে হবে। তাদের যেহেতু এসিডিটির সমস্যা থাকতে পারে, সেহেতু তারা এই সময় সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করবেন আর প্রচুর পানি বা ডাবের পানি গ্রহণ করবেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে খেতে হবে।
৮. ইফতার ও সাহরিতে খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাবেন, যা আপনার হজমে সহায়ক হবে। ইফতার ও সাহরিতে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করুন। গ্লাস গুনে পানি খেতে অসুবিধা হলে সমপরিমাণ পানি বোতলে ভরে রাখুন এবং ইফতার থেকে সাহরির সময়ের মধ্যে তার পুরোটা পান করুন।
৯. যেহেতু এখন ফলের মৌসুম। বিভিন্ন প্রকারের তাজা ফলফলাদি এখন সহজপ্রাপ্য। তাই, প্রাকৃতিক ফলফলাদি খাদ্য তালিকায় রাখা শ্রেয়। এতে করে হাইট্রেডেট থাকা যায়। চিনির পরিবর্তে মধু খেলে উপকার বেশি পাবেন। যারা ডায়াবেটিকসের রোগী তাদের খাবার গ্রহণ এবং ইনসুলিন ব্যবহারে সচেতন থাকবেন।
১০. রোজায় অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। তৈলাক্ত খাবার খেলে লিপিড প্রোফাইল খারাপ হয়ে যেতে পারে, মানে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে। যারা রোজায় চর্বিজাতীয় খাবার মেনে চলবেন, তারা এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এমনকি যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে, এ নিয়ম মেনে চললে তারা ভালো হয়ে যেতে পারেন।
সারাদিন রোজা থাকার ফলে স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রকট। তাই, খাদ্য তালিকায় আঙ্গুর, খেজুর, ফলের রস এজাতীয় খাবার রাখা উচিৎ।
এগুলো যেমন শরীরে সহজে শক্তি আহরণে কাজে লাগে, তেমনি শরীরের পানি ও খনিজের প্রয়োজনও মেটায়। মিষ্টি শরবত, মিষ্টান্নজাতীয় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার বর্জনীয়।
গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী


