রোজায় সুস্থ থাকার পাঁচ উপায়

রোজায় সুস্থ থাকার পাঁচ উপায়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের সওগাত নিয়ে আসছে পবিত্র মাহে রমযান। এ মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে রোজা রাখা মুসলমানদের উপর ফরজ। আর রোজা রাখার জন্য আমাদের শারীরিক সুস্থতার একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখেই আমাদের আজকের এই আয়োজন পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য।

রোজা অবস্থায় আমাদের অসর্তকার ফলে অনেক সময় রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হয়। ফলে সবগুলো রোজা ঠিকমত রাখা দুঃসাধ্য হয়ে উঠে। খাদ্য গ্রহণের নিয়মতান্ত্রিক রুটিনে পরিবর্তন ও বৈচিত্র্যময় মেন্যুর ফলে সাধারণত এমনটি হয়ে থাকে। তাই আসুন আমরা জেনে নেই রোজায় কোন ধরণের খাদ্য গ্রহণ করলে আমরা অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে বাঁচতে পারি। এখানে সমস্যাগুলো এবং বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো-

১. কোষ্ঠকাঠিন্য

বেঁচে থাকার উপায় : যথাসম্ভব ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে, পানি বেশী পরিমাণ পান করতে হবে এবং আঁশযুক্ত খাবার ভক্ষণ করতে হবে।

২. হজমে সমস্যা ও পেটফাঁপা

বেঁচে থাকার উপায় : মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা যাবেনা, তেলেভাজা, ময়লাযুক্ত, চর্বিযুক্ত খাবার ভক্ষণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সফট ড্রিংক নেয়া যাবেনা।

৩. লো ব্লাড পেসার

বেঁচে থাকার উপায় : তরল খাবার বেশী গ্রহন করতে হবে।

৪. মাথাব্যথা

বেঁচে থাকার উপায় : যাদের ধূমপান ও অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস আছে। তারা এই সাধারণত এই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই ধূমপান ও অতিরিক্ত কফি পান ছেড়ে দিলে রোজায় এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

৫. পেপটিক আলসার,গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা

বেঁচে থাকার উপায় : সারাদিন অভুক্ত থাকার ফলে অনেকের এসিডিটি হয়ে এই সমস্যাগুলো হতে পারে। অতিরিক্ত তেল মশলা যুক্ত খাবার, কফি এবং সফট ড্রিঙ্কস এই অবস্থাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

পাকস্থলীর এসিড নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক ওষুধ আছে। যারা এসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন এবং পেপটিক আলসারের রোগীরা অবশ্যই রমযানের আগে ডক্টরের পরামর্শ নিবেন।

রোজায় খাদ্যাভ্যাস কেমন হলে ভালো  

-একসাথে অতিরিক্ত পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা যাবেনা। অনেকে সারাদিন রোজা থাকার ফলে ইফতারিতে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন করে থাকেন। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত, ভাজাপোড়া খাবার যথাসম্ভব কম গ্রহণ করুন। ইফতারিতে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ ও এ ধরণের খাদ্যগ্রহণের ফলে পরিপাকযন্ত্রে গোলমাল দেখা দিতে পারে।

– তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত, ও ভাজাপোড়া খাবার পরিত্যাগ করুন। এতে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

– পানিশূন্যতা কাটানোর জন্য রোজায় লবন কম খান। রোজাবস্থায় তৃষ্ণার্ত হতে না চাইলে অবশ্যই লবন কম খাবেন।

– সারাদিন রোজা রাখার কারণে আপনার অতিরিক্ত পানির চাহিদা মেটাতে কখনোই চিনি দিয়ে গোলানো শরবত অথবা সফট ড্রিঙ্কসের উপর বেশি নির্ভর করবেন না। ঘরে তৈরী শরবত এবং ফলের রস পরিমাণ মত গ্রহন করুন, তবে সফট ড্রিঙ্কস আর কৃত্রিম জুস না খাওয়ার সর্বোত্তম চেষ্টা করবেন।

-যথাসাধ্য শাক -সবজি জাতীয় খাবার দ্বারা সাহরী -ইফতার করুন।

– অলসতা বশতঃ সেহরি না খেয়ে রোজা রাখবেন না। এতে করে স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

– রোজাবস্থায় শারীরিক প্রশান্তির জন্য প্রতি রাতে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

যে সমস্ত খাবার পরিহার করতে হবে

১. অতিরিক্ত চা-কফি পান।

২.অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার।

৩.তৈলাক্ত ভাজাপোড়া খাবার।

৪.অতিরিক্ত লবন ও চিনি যুক্ত খাবার।

৫.অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ

যে ধরনের খাবার গ্রহণ করবেন

১. কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার।

২. ফল, শাকসবজি।

৩. পরিপাকে সময় নেয় এমন খাবার।

৪. প্রচুর পরিমান পানি।

৫. আঁশ যুক্ত খাবার।

রোজায় স্বাভাবিক থাকতে প্রতিদিন অবশ্যই কলা ও খেজুর খান। এ দুটি ফল অধিক উপকারী।এ ফল দুটি একইসাথে আঁশযুক্ত ও চিনি, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। তাই, কলা ও খেজুর খেতে ভুলবেন না। রোজাগুলো যদি শরীরের প্রতি লক্ষ রেখে ভালভাবে আদায় করতে পারেন, তবে আপনার ঈদ হবে আনন্দময়।

গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *