রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমে বাড়ছে অপরাধ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমে বাড়ছে অপরাধ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তাঁর নাম করিম মোল্লা। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় পেয়েছেন। এখন থাকছেন কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমোড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে। যে দেশ তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে সেই দেশেই তিনি শুরু করেছেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গত ১৪ জানুয়ারি ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে চলে যান মিয়ানমার এলাকায়। সেখান থেকে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে রাত ৩টার দিকে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশ প্রান্তে প্রবেশ করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিজিবির অভিযানে টেকনাফের দমদমিয়ার জালিয়ার দ্বীপ এলাকা থেকে করিমসহ আরো দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

করিম মোল্লার মতো শত শত রোহিঙ্গা এভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। তাদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের কিছু অপরাধী। অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক বানানোর কাজে লিপ্ত হয়েছে কয়েকটি এনজিও। এই এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের বাংলা লেখাপড়া শিক্ষা দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের অনেকে ধনী হওয়ার নেশায় মেতেছে। এর জন্য তারা কয়েকটি ডাকাত গ্রুপও তৈরি করেছে। রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রুপের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে স্থানীয় ডাকাত গ্রুপ। তাদের মধ্যে আবার ক্যাম্পের ভেতরেই প্রায় মারামারি হচ্ছে। এক গ্রুপ ইয়াবার চালান নিয়ে আসার পর অন্য গ্রুপ ছিনিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে ইয়াবা বিক্রির টাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রায়ই মারামারি বাধছে। ইয়াবা সংগ্রহে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে দেশের কিছু মাদক কারবারি। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমে বাড়ছে অপরাধীর সংখ্যা।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গারা ক্যাম্পগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। কোনো রোহিঙ্গা অপরাধ করলে তাকে ধরতে গেলে অন্যরা দ্রুত ক্যাম্পের ভেতরে চলে আসে। ফলে চাইলেই ক্যাম্পে অভিযান চালানো যায় না। এ কারণে রোহিঙ্গারা অধিক হারে অপরাধে জড়াচ্ছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (২ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘আমরা ইয়াবাবিরোধী অভিযান চালিয়ে অনেক রোহিঙ্গাকে আটক করেছি।’

এদিকে গত ৬ জানুয়ারি ‘বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উঠে আসে কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের বাংলা শিখিয়ে বাঙালি বানানোর কাজ করছিল। ফলে ওই এনজিওগুলোকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেসব অপরাধ হচ্ছে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে। যেসব অবৈধ এনজিও কাজ করছে সেগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *