শনিবারও আষাঢ়ে বর্ষণের আভাস

শনিবারও আষাঢ়ে বর্ষণের আভাস

শনিবারও আষাঢ়ে বর্ষণের আভাস

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আষাঢ় শুরু হওয়ার আগে থেকেই ইঁদুর বিড়াল খেলা চলছে রোদ বৃষ্টির মাঝখানে। এই রোদ এই বৃষ্টি। চেনা মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় কয়েক দিন ধরেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে দেশময়। তবে আষাঢ়ের বৃষ্টি বলতে যা বোঝায় তা দেখা গেল শুক্রবার। দেশের প্রায় সব জেলাতেই এদিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার ও রোববারও ভারী বর্ষণ হতে পারে। আর বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রথমবারের মতো ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। ঢাকায় শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৮৯ মিলিমিটার। সকাল ১১টা থেকে টানা দুপুর ১টা পর্যন্ত ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর ফার্মগেট, শান্তিনগর, শেওড়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ষণ হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে, ২০২ মিলিমিটার। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ১৫৮ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১২৮ মিলিমিটার ও সীতাকুণ্ডে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলার চিত্রও প্রায় একই। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় বৃষ্টি হয়েছে ১৪৭ মিলিমিটার।

আগামী ১০ দিনের পূর্বাভাসে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে। এই সময় কোনো কোনো জায়গায় পানি সমতল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৫০ সেন্টিমিটারের মধ্যে আসতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অববাহিকায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, আগামী ১০ দিনে গঙ্গা নদীর পানি সমতল থেকে বাড়তে পারে। অবশ্য গঙ্গা নদীর অববাহিকায় বিপত্সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই। ঢাকার চারপাশের নদীর পানিও সমতল থেকে বাড়তে পারে। তবে আগামী ১০ দিনে নদীগুলোর অববাহিকায় বিপত্সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই। ভারতের আসাম, মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় শনিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। এ ছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী দুই দিন আবহাওয়ার এই অবস্থা হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *