পাথেয় রিপোর্ট : শাপলা চত্বরের বদলা না নিতে পারলে আমরা বেঈমান হয়ে যাব মন্তব্য করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আল্লামা শফি ভুলে যেতে পারেন, আমি কাদের সিদ্দিকী ভুলি নাই। ওই শাপলা চত্বরে ঈমানদারদের রক্ত ঝড়েছে, শাপলা চত্বরের বদলা না নিতে পারলে আমরা বেঈমান হয়ে যাব।
৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী।
বিএনপিতে নয়, ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি বলে দাবী করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু চান, লড়াইয়ে জিততে চান, তাহলে বিএনপি আপাতত ভুলে যান।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না। আমরা চাই শেখ হাসিনার মুক্তি কবে হবে। বলা হয়, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে, যা সঠিক নয়। রাজাকারের গাড়িতে পতাকা আওয়ামী লীগই দিয়েছে। মহিউদ্দিন ও আশিকুর রহমানের গাড়িতে পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ আপনাদের পেছনে দৌড়াচ্ছে, এটা বন্ধ হোক আমি চাই না। কারণ, দৌড়াতে দৌড়াতে যখন হয়রান হয়ে যাবে তখন ভোট চুরি করতে পারবে না!
জনসভার মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম প্রমুখ।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তামাশার নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, অন্যায় ভাবে বর্তমান সরকার ১০ বছর দেশকে শোষণ করেছে। উন্নয়নের কথা বলে লাগামহীন দুর্নীতি করেছে। নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্যই এবারও প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবার সেই তামাশার নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আপনারা মাঠে নামলে সরকারের পতন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হবে। একদিকে সংলাপ অন্যদিকে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, তফসিল ঘোষণা পরস্পর বিরোধী অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগকে সরে আসতে হবে।
ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় গুম-খুন-গ্রেপ্তার করলে আন্দোলন থেমে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। বিএনপির একজন নেতা-কর্মীকেও ঘরে থাকতে দিচ্ছে না।


