পাথেয় রিপোর্ট : পরিচালক রায়হান রাফীর চতুর্থ সিনেমা ‘ইত্তেফাক’-এর শুটিং চলছে সিলেটে। সেখানকার শাহী ঈদগাহ ময়দানে একটি নামাজের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। পরে জানা গেছে, শুটিং হলেও প্রকৃতপক্ষে নামাজই পড়েছিলেন এই অভিনেতা!
এ বিষয়ে পরিচালক জানান, শুটিংয়ের এই দৃশ্যে সত্যিই নামাজ পড়েছেন সিয়াম আহমেদ।
এদিকে শাহী ঈদগাহ ময়দানে সিনেমার শুটিং করার বিষয়টিকে ‘ধৃষ্টতা’ বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরী শাখার নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সিনেমার শুটিংয়ের নিন্দাও জ্ঞাপন করেন তারা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের শাহী ঈদগাহে সিনেমার শুটিং করে ইসলাম ধর্মের প্রতি ধৃষ্টতা দেখালো একটি মহল। গতকাল (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি নিউজ দেখে থমকে যান ইমাম নেতৃবৃন্দ। সিলেটের শাহী ঈদগাহ একটি ঐতিহাসিক স্থান। যেখানে প্রতিকুল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিবছর লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়তে আসেন। সরকারের এমপি মন্ত্রীগণও নামাজের পূর্বে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে কল্যাণের কথা বলেন। বড় বড় জানাজার নামাজ শাহী ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়। এ সকল ধর্মীয় কাজ সম্পাদিত হওয়া এই ঐতিহাসিক ও পবিত্র শাহী ঈদগাহে সিনেমার শুটিং হয়েছে তা বিশ্বাস করা কঠিন হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পুলিশি প্রহরায় শুটিং করে ফেলেছে।’
এমন ‘গর্হিত কাজের’ সাথে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে কর্তৃপক্ষের প্রতি ইমাম নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘সিলেটের শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে যারা এ কাজ করেছে তারা দেশ ও ধর্মের দুশমন। সিলেটের জনপ্রতিনিধিগণ আজ সিলেট নগরীকে আধুনিক নগরী গড়তে ব্যতিব্যস্ত হয়ে আছেন। অথচ শাহী ঈদগাহের মত একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও পবিত্র স্থান আজ যুবক-যুবতিরা আড্ডাখানায় পরিণত করেছে। এসব বেহায়াপনা শাহী ঈদগাহ এলাকা তথা সিলেটের মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।’


