শিক্ষার্থীকে দেওবন্দের মতো ঢাবিও সুবিধা দেয় না
মুহাম্মদ আইয়ূব : খেলাম সাতদিন অথচ টাকা নিচ্ছে পুরো মাসের। আচ্ছা এটার নাম কী দেওবন্দী মাদরাসা? রোজ নামচার শেষটুকু পড়েই চশমার ফাঁক দিয়ে চেয়ে রইলাম তাহসিনের দিকে, না কস্মিনকালেও না এটা দেওবন্দী মাদরাসার চিত্র হতে পারে না।
শোনো তাহলে আজ আমি তোমাদের দারুল উলূম দেওবন্দের গল্প শুনাবো। তুমি যখন দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হতে যাবে তখন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫০ রুপি দিয়ে একটি ফরম সংগ্রহ করবে। বাস এতোটুকুই, তারপর ভর্তি থেকে নিয়ে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত দারুল উলূম তোমার ব্যয় ভার গ্রহণ করবে। তোমরা শুনে অবাক হবে যে দারুল উলূম প্রত্যেকদিন তার ছাত্রদের জন্য নয়টি কিংবা এগারটি মহিষ জবাই দিয়ে থাকে। সপ্তাহে একবার এক কেজি করে বিরানির ব্যবস্থা করবে।
তুমি অসুস্থ জ্বর ঠান্ডা কাশি? চলে যাও দারুল উলূমের আজমত হসপিটালে ৫ রুপি ডাক্তারের ফিস দিয়ে ওষুধসহ ঘরে ফিরবে। গ্রীষ্মকালে কাঠফাঁটা রোদে ঠান্ডা পানির জন্য তোমার নাকাল দশা কোন সমস্যা নেই, তুমি চলে যাও মসজিদে সাত্তা বা রশিদ কিংবা কেরাত বিভাগের পাশে দেখবে ফ্রিজিং ঠান্ডা পানির সুব্যবস্থা। শীতকালে ঠান্ডা পানিতে মরণদশা নো প্রবলেম দারুল উলূম তোমার জন্য গরম পানির সুব্যবস্থা করে রেখেছে।
বাড়িতে আর্থিক সমস্যা চলার মত টাকা নেই, পড়ার মতো কিতাব নেই কোন চিন্তা করবে না দারুল উলূম তোমাকে কিতাব দিবে টাকা দিবে। সুদূর সাহারানপুর দিল্লি বা দেওবন্দ স্টেশনে যেয়ে ঘরে ফেরার টিকিট কিনতে হবে না দারুল উলূমই পাচ্ছো বাড়ি ফেরার টিকিট।তোমার বাবা হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তোমাকে দেখতে এসেছেন তোমার বাবার আরামে যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য দারুল উলূমের মেহমানখানা প্রস্তুত।
শীতকালে ঠান্ডায় ঘুমোতে তোমার কষ্ট হবে জেনে দারুল উলূম তোমাকে বিনা পয়সায় লেপ দেবে।মোটকথা রাসূলের মেহেমান যাদের পায়ের নিচে ফেরেশতারা তাদের নুরের পর বিছিয়ে দেয় সমুদ্রের মাছ গর্তের পিপীলিকা পর্যন্ত দোয়া করে তাদের যেন দারুল উলূমে কোন রকম কষ্ট না হয়। দারুল উলূম দেওবন্দ তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অব্দি তীক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে পরখ করছে এবং দিনকে দিন উন্নতি করছে।
সুতরাং দেওবন্দী চেতনা স্লোগান দেওয়া সহজ কিন্তু বাস্তবায়ন করা কঠিন। আমরা দারুল উলূমে যাই সেখান থেকে চার বৎসর দুই বৎসর তিন বৎসর পড়ালেখা করি ওলামায়ে কেরামের আসাতেজায়ে কেরামের মজলিসগুলো সরগরম রাখি সুযোগ হলে তাদের খেদমত করি ঠিক কিন্তু যখন বর্ডার পার হয় তখন ওদের দেশের চেতনা ওদেরকেই দিয়ে আসি। কারণ আমরা বাঙালি জাতি আমাদের নিজস্ব চেতনা আছে, ইতিহাস আছে আমরা কেন অন্যের পায়ে হাঁটবো?
তাহলে তো আমরা বলতে কিছুই থাকলো না এটা তোদের বীর পুরুষদের নামের সাথে মানায় না। বীর বাহাদুরের নিজস্ব বলতে কিছু থাকা চাই। কষ্ট করে এলাম শিখেছি খেয়ে না খেয়ে ডিগ্রী অর্জন করেছি এখন তো জীবনটাই বৃথা, আর এতিম মিসকিনদের তো আর মাছ গোশত খেলে লেখাপড়া হবে না কষ্ট করে এলেম শিখতে হবে কষ্ট ছাড়া কি কেউ আলেম হতে পারে?
দারুল উলূম দেওবন্দ মাথার তাজ। এতসব সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে যা আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও দেয় না। শিক্ষার্থীরাই সেই সুযোগ পায় না আর মেহমান! কিন্তু এতসব সুবিধা দিয়ে পৃথিবীতে অনন্য এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে দারুল উলূম।
লেখক : শিক্ষক


