শিক্ষা ও রাজনীতি পৃথক : শীর্ষ আলেমদের ভাবনীয় চিন্তা হোক

শিক্ষা ও রাজনীতি পৃথক : শীর্ষ আলেমদের ভাবনীয় চিন্তা হোক

শিক্ষা ও রাজনীতি পৃথক

শীর্ষ আলেমদের ভাবনীয় চিন্তা হোক

মানজুম উমায়ের

আপনি বা আপনারা হয়তো ভাববেন এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার। এটা সত্য। যুবকই আনতে পারে সব বিজয়। আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনীতির জায়গা আর শিক্ষার জায়গাটা এক নয়। যখনই এক হয় তখনই সব ঘুলিয়ে যায়। আজকে একটা আদর্শ রাজনীতিক সংগঠন খুব রেয়ার। নেই বললেই চলে। ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে অনেক বেশি অবহেলিত শিক্ষা। শীর্ষ আলেমগণ তা আশপাশে ভালো করে তাকালেই সহজে বুঝতে পারেন। এ দেশে রাজনীতির কারণে কোনোক্রমেই যেন কোনো মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিয়ে দয়া করে শীর্ষ আলেমগণ ভাববেন।

কোনো বোর্ডেই রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিগণ দায়িত্বে না থাকলেই ভালো। থাকলেও বোর্ডের যেনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকে তা নিয়ে অবশ্যই ভাববেন।

শিক্ষকগণ অবশ্যই রাজনীতির স্পীড বা আন্দোলন-সংগ্রামের চেতনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি করবেন। এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু যারা কেবল মাঠ গরম করার জন্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বেড়ায় তাদের দিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতিই বলি, শিক্ষা ময়দানই বলি কোথাও কাজ নেয়া সম্ভব নয়। আজকে যে শিক্ষার্থী উস্তাদকে ফাঁকি দিয়ে মিছিলে গিয়ে জুতো হারিয়ে এসেছে সেই কিন্তু মাদরাসায় বিকাল এতিমখানার ফ্রি খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। একজন মুহতামিম যে পরিশ্রম করে ওই শিক্ষার্থীর খাবার যোগানোর চেষ্টা করেন তা ভুলে গেলে চলবে না।

শিক্ষাবোর্ডের আহ্বানে অন্তত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবেন না। আমি জানি, দেশের শীর্ষ আলেমগণ কম কিছু বুঝেন না। এ বিষয়ে ভালোই জানেন। ভালো সিদ্ধান্তই নিয়েও থাকেন। আলাদা সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে যে কোনো আন্দোলন সংগ্রাম চলতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই।

কোনো ব্যানার ছাড়া যেসব মাদরাসা থেকে বলা কওয়া ছাড়াই আন্দোলনে নেমে পড়েন ওসকল শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করুন। এদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তানৈতিক অগ্রসর মানুষের বড় প্রয়োজন। হাঁকডাকে যে কোনো সমাধান নেই তা আমরা অনেক আগেই জেনে গেছি। ইসলামী রাজনীতির একাল সেকাল নিয়ে কারও কোনো ভাবনা। সমালোচনা নেই। থাকলে এ সংগঠনগুলো ভালো রসদ পেত। কেউ কথা বললে তাকে তুলোধুনো করে ছেড়ে দেয়া হয়। যে কারণে ইসলামী রাজনীতির দস্তার থেকে কোনো শিক্ষা নেই। এখনো গন্তব্যহীন পথযাত্রায় ইসলামী রাজনীতি।

পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে আলেমদের অগ্রসর হওয়া উচিত। যেকোনো আন্দোলনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণও জরুরি। লাগামহীন বক্তব্য কখনোই একজন আলেম দিতে পারেন না। লাখো মানুষের সামনে বক্তব্য দিয়ে পরে সরি বলারও সুযোগ নেই। আল্লাহই ক্ষমা করার মালিক। আলেমকে অবশ্যই নিজের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে। তাহলেই সমাজ আলোর মুখ দেখবে। প্রকৃত দায়ীর ভূমিকায় ফিরে আসুক মুসলিম উম্মাহ।

লেখক : তরুণ আলেম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *