পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমাদের সমাজে এমন অনেক বাবা-মা আছেন, যারা তাঁদের সন্তানকে বই পড়ে শোনানোর জন্য সময় দিতে কার্পণ্য করেন৷ অথচ দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ে শোনানো উচিত৷ এতে শিশুরা মানসিকভাবে শক্ত হয়ে ওঠে৷ শিশুদের বই পড়ে শোনানো কেন গুরুত্বপূর্ণ? এ বিষয়ে কিছু কথা পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকের জন্য উল্লেখ করা হলো—
১. শিশুদের মনোবল বাড়ায় : শিশু সন্তানকে প্রতি রাতে বিছানায় নিয়ে বই পড়ে শোনানোর পর শিশুটি যখন ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে, সেই সুন্দর দৃশ্যের অনুভূতি প্রতিটি মা-বাবার জন্যই আনন্দের৷ তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আজকাল অনেক পরিবারে এমনটা দেখা যায় না৷ শিশুরা বই পড়লে বা কেউ পড়ে শোনালে শিশুদের সিদ্ধান্ত নেয়ার মনোবল বাড়ে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷
২. ১৫ মিনিটই যথেষ্ট : সমীক্ষায় জানা যায়, জার্মানিতে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শতকরা মাত্র ২৮ভাগ শিশুকে বই পড়ে শোনানো হয়৷ আর প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো শতকরা ১৫ ভাগ শিশুকেও বাড়িতে বই পড়ে শোনানো হয় না৷ অথচ শিশুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য দিনে মাত্র ১৫ মিনিট সময়ই যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ লুকাস হেইমান।
৩. অনভূতির আদান-প্রদান : শিশুকে সাথে নিয়ে বই পড়ে শোনালে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে আর এতে ওরা ওদের প্রয়োজনীয় বইগুলোও সহজে পড়তে পারে৷ বই পড়ার অভ্যাসের কারণে শিশু পড়ায় মনোযোগী হতে যেমন শেখে, তেমনি অন্যদের সাথে অনুভূতির আদান-প্রদানও সহজে করতে পারে৷
৪. ১০ মাস বয়সেই শিশুর হাতে বই তুলে দিন : শিশুর সাথে বই পড়ার মতো সুন্দর কাজটি যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, শিশুর জন্য তা তত বেশি মঙ্গলজনক৷ মাত্র ১০ মাস বয়সেই শিশুর হাতে কাপড়ের তৈরি ছবির বই ধরিয়ে দিন৷ তারপর ধীরে ধীরে বয়স অনুযায়ী অন্যান্য রুপকথা বা পশু-পাখি কিংবা শিশুর উপযোগী যে কোনো বই দিন৷ শিশুকে সাথে নিয়ে বই কিনুন৷
৫. বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই : আপনার শিশুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন৷ বই খুলে দেয় মানুষের মনের জানালা আর দৃষ্টিকে করে প্রসারিত৷ ১৬ নভেম্বর পুরো জার্মানিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫তম বই পড়া দিবস পালিত হয়েছে৷ বই হাতে নিয়ে পড়ার আনন্দের সাথে ‘ই-বুক’-এর কোনো তুলনা নেই৷ হাতে বই নিয়ে বইকে অনুভব করা যায়৷ বুক শেল্ফে রাখা বই দেখা যায়, দেখে বারবার পড়া যায়৷ তাই জ্ঞানের ভাণ্ডার ও ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই৷
৬. শিশুর আগ্রহকে গুরুত্ব দিন : কোনো শিশু যদি একই বইয়ের গল্প বারবার শুনতে চায় , এতে মা-বাবা বিরক্ত হবার কিছু নেই, বরং এই আগ্রহকে শিশুর জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করেন মনে করেন হেইমান৷


