শিশু নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা জরুরি
আব্দুল লতিফ বকসী : শিশুদের যেকোন শিক্ষণীয় কাজে উৎসাহ দিলে তাদের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতে আমরা উন্নত জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবো, সেজন্য আমাদের প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
বিছিন্নভাবে শিশুর উপর নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবাদে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়ে। আমাদের সবার প্রয়োজন নির্যাতনের শিকার শিশুটির পাশে দাাঁড়ানো। বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আইন প্রণয়ন করেছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচারণা চালাচ্ছে। সরকার এ সহায়ক কাজগুলো করলেও প্রকৃত পক্ষে কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের সবাইকে। ২০১০ সালে গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় শিশু শ্রম নিরসন নীতি, ২০১১ সালে জাতীয় শিশু নীতি, ২০১৩ সালে পাস করা হয়েছে শিশু আইন। প্রণীত হয়েছে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন। পথশিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু, বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া ও প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। সরকারের পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের।
সরকারের বিশেষ উদ্যোগে সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিশুর সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়া, শিশুকে বিপদমুক্ত রাখতে ব্যবস্থাগ্রহণ, উপযুক্ত শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিশুর পরিবারের আয় বৃদ্ধিমূলক প্রকল্পে নিয়োজিত করা, সামাজিক কর্মকা-ে এবং বিনোদনমূলক কাজে শিশুদের অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দেয়া, শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতন, হয়রানি, পাচার থেকে শিশুকে রক্ষা করা, বাল্যবিবাহ থেকে শিশুকে রক্ষা করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে, শিশুরা সুফল পাচ্ছে।
শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। শিশু ভুল করতেই পারে। তাকে সঠিকভাবে বুঝালে সে আর এ কাজটি করবে না। নির্যাতন শিশুকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। বড় হলেও নিজের মধ্যে তার সে প্রবণতা থেকেই যায়। সমাজের প্রতিটি মানুষের শিশুর প্রতি সদয় হওয়া প্রয়োজন। শিশুর প্রতি একটু আন্তরিক হলে শিশুর ভবিষ্যৎ হতে পারে অন্যরকম। সমাজ পরিবর্তন চাইলে শুধুমাত্র সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপর নির্ভর না করে নিজেকে সাধ্যমত অবদান রাখতে হবে। এতে সমাজ উপকৃত হবে, উজ্জল হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। উন্নত জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ অনেক সহজ হবে। আমাদের শ্লোাগান হবে- শিশু নির্যাতন করবো না, শিশু নির্যাতন করতে দিবো না। তবেই আজকের শিশু আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, হাল ধরবে উন্নত জাতির।
লেখক : শিশু গবেষক ও কলামিস্ট


