শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: পশ্চিমবঙ্গে শুক্রবার রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও মমতা ব্যানার্জী সরকারের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী আগামী ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্র ঘোষিত দেশজুড়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার বিক্ষোভ করবে জমিয়তে উলামা হিন্দ পশ্চিম বাংলা।
উল্লেখ্য, ভারতবর্ষের পবিত্র সংবিধান ও তা প্রদত্ত মৌলিক অধিকার বিরোধী যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কেন্দ্র সরকার উপস্থাপন করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছ।এই মর্মে কেন্দ্রীয় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মহাসচিব সাইয়্যিদ মাওলানা মাহমুদ মাদানী প্রতিটি রাজ্য, জেলা ও শাখা সংগঠনকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার ভারতবর্ষজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিবস ও বিক্ষোভ পালন করা হোক।এই প্রতিবাদ দিবসে আলোচনা ও বক্তব্য সবকিছু শাস্তিপূর্ণভাবে হবে।পশ্চিমবাংলায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বলিষ্ঠ সংগঠনের জেলা ও শাখা সংগঠনের সর্বস্তরের পদাধিকারীদের প্রতি রাজ্য জমিয়তের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছেন, গুরুত্ব সহকারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার।কোনোভাবে যেন কেউ প্ররোচিত না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
ইতিমধ্যে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এবিষয়ে কলকাতায় ও বড় মাপের সমাবেশ করার পরিকল্পনা রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ করছে বলে পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে রাজ্য জমিয়ত কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা কারী সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ উসমান মানসুরপুরী ও জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, লোকসভায় সংখ্যার নিরিখে পাস হওয়া এ বিল ভারতীয় সাংবিধানিক চেতনাবিরোধী।
তারা বলেন, নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর সংশোধন অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের মূল বিধান ১৪-১৫-এর সাথে পাস হওয়া এই আইনটি সাংঘর্ষিক। আইনের দৃষ্টিতে যেটা একাধারে বর্ণ, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে বৈষম্যের অনুমতি দেয় না।
জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও জেনারেল সেক্রেটারি এই সংশোধনীকে ভারতীয় আইনবিরোধী উল্লেখ করে আশা ব্যক্ত করে বলেন, রাজ্যসভায় তা তেমন সমর্থন পাবে না, এবং কোন ফলাফল বয়ে আনবে না।
যারা ভারতের আইন ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে তাদের উদ্দেশ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপনার পূর্ণ শক্তি দিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে ভারতের পার্লামেন্ট লোকসভায় দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কপি ছিঁড়তে ছিঁড়তে মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, আমি এই বিলের কপি ছিঁড়ে দিচ্ছি। কারণ, এটি হিন্দুস্তানের সংবিধানকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
ছিঁড়ার সময় তিনি হিন্দুস্তানের জাতির পিতা মাহাত্মা গান্ধীও এমন একটি বিল ছিঁড়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম পর্বে সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) পাস হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। দুপুরে বিলটি আলোচনার জন্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় পাস হয়।


