শুধু বর্ধমান কান্ডে নয়, সন্ত্রাসবাদ আমাদের মনেও

শুধু বর্ধমান কান্ডে নয়, সন্ত্রাসবাদ আমাদের মনেও

শুধু বর্ধমান কান্ডে নয়, সন্ত্রাসবাদ আমাদের মনেও

চৌধুরী আতিকুর রহমান : ২০০১-এ নিউইয়র্ক-এর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বংসের পর ব্যক্তিগতভাবে আমি যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম তা ঠিক এই মুহূর্তে বেশ প্রাসঙ্গিক। আমি, আমার প্রয়াতা স্ত্রী, তার মা ও আমার এক ভাইপো পুরী যাওয়ার ট্রেন ধরার জন্য হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়েছিলাম। এই যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নির্ভেজাল ভ্রমণ।পুরী ভ্রমণ; তাই এই ভ্রমণ তালিকায় সমুদ্রস্নান, চালু থাকা বা ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন হিন্দু মন্দির সমূহের স্থাপত্য পরিদর্শন ছিল অনস্বীকার্য।
আমাদের পাশে প্ল্যাটফর্মের ট্রেনটি যাচ্ছিল বেঙ্গালুরু। উক্ত ট্রেনে চড়ে বেঙ্গালুরু যাওয়ার তাবলীগ জামাতের বেশ কয়েকটি জামাত প্লাটফর্মেই তালিমে ব্যস্ত ছিল। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের তালিম শুনেছিলাম।
পুরী যাওয়ার ট্রেন প্লাটফর্মে পৌঁছলে আমি মালপত্র নিয়ে ট্রেনে বসার উদ্যোগ নিতেই সাদা পোশাকের আমার থেকে প্রায় এক হাত লম্বা এক ব্যক্তি হঠাৎ উদিত হয়ে বললেন, ‘আপনাকে একবার থানায় যেতে হবে’। আমি হতভম্ব হয়ে, কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিলেন ‘আপনার পুরি যাওয়ার উদ্দেশ্য কি’? আমি বুঝলাম আমার কাল হয়েছিল দাঁড়িয়ে তালিম শোনা। আমি বললাম, ‘এই আমার স্ত্রী, এই আমার বৃদ্ধা শাশুড়ি আর এই আমার ভাইপো। এদের নিয়ে আমি পুরি যাচ্ছি বেড়াতে’। সবকিছু দেখে তিনি আমাকে পুরী যাওয়ার ট্রেনে ওঠার ছাড়পত্র দিলেন।
তখন কেন্দ্রে বাজপেয়ির বিজেপি সরকার এবং রাজ্যে বুদ্ধবাবুর বাম সরকার। তিনি মাদ্রাসা সংক্রান্ত তাঁর সেই বিখ্যাত (কুখ্যাত) উক্তিটি করে ফেলেছেন। দাড়িওয়ালা (প্যান্ট শার্ট পরিহিত হলেও) যে কোন ব্যক্তির দিকেই ছিল সন্দেহের তির। মানসিকতা হল বা কিছু মানুষ ভাবতেই পারেনা সুন্নতি দাড়িওয়ালা মুসলিম পুরীর সমুদ্র ও ইতিহাসের টানে ভ্রমণে যেতে পারে।
খাগড়াগড় কাণ্ডের পর মনে হতেই পারে ভারতকে তথা দেশের পূর্বাঞ্চলকে ঘাঁটি করে বাংলাদেশকে অস্থির করার একটি পরিকল্পনা ভালোই বাসা বেঁধেছিল। সেখানে এমন কয়েকজন জড়িত যাদের দেখে মনে হতেই পারে এদের যেন কোথায় দেখেছি। অত্যন্ত নিরীহ হোক, অনেকটাই যেন পাশের বাড়ির ব্যাক্তিটির মত। সব থেকে অবাক লাগে সীমান্তের কাঁটাতার বা কড়া বিএসএফ নজরদারির পরও বাংলাদেশবিরোধীরা এখানে ঘাঁটি গাড়ে কি করে? যেখানে ফেলানীর মতো ঘটনাও ঘটে। মৃতদেহ রূপে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হয়। চক্রান্ত বলছি না কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের গাফিলতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি।
এক সমীক্ষা বলছে, ভারত হচ্ছে সেই দেশ যা সন্ত্রাসী আক্রমণের নিশানা রূপে সারা পৃথিবীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে। ভারতবর্ষের সন্ত্রাসের বলি মানুষের অধিকাংশ বামপন্থী সংগঠন বিশেষ করে মাওবাদী দ্বারা। মুসলিম সন্ত্রাস যা ভারতকে নিশানা করে তার উৎসই হল কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই। দুটি মুসলিম সন্ত্রাসবাদী দল হিজবুল মুজাহিদীন, ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন মোট সন্ত্রাসবাদের মাত্র ১৫ শতাংশ (মোট সন্ত্রাসী হত্যার মধ্যে ৬০ জনের মতো) ঘটিয়ে থাকে। বাকি সন্ত্রাসী আক্রমণের সিংহভাগই মাওবাদীদের দ্বারা। মাওবাদীরা ১৯২ টি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে শতকরা হিসাবে প্রায় ৫০ শতাংশ। মোট সন্ত্রাসী হত্যার হিসাবটি হলো ৪০৪ জন। মাওবাদী বা মুসলিম সন্ত্রাসী যাই-ই হোক এরা নিশানা করে ছত্রিশগড়, ঝাড়খন্ড ইত্যাদি রাজ্য পুলিশ ও প্যারামিলিটারি এমন কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থাকে। কাশ্মীরে বলিপ্রাপ্ত হয় বিএসএফ ইত্যাদি সীমান্তরক্ষীরা। উভয় ক্ষেত্রেই বহু নিরীহ মানুষ গুলি-বোমা ইত্যাদির সামনে মারা যায়। ২০১৩ নাগাদ ভারতবর্ষে ৭০% সন্ত্রাসী আক্রমণ কোন মৃত্যু হয়নি। সারা বিশ্বে আল-কায়েদা, আই এস আই এস (ISIS), বোকোহরাম, তেহরিক-ই-তালিবান দলগুলি ৬৬ শতাংশ সন্ত্রাসী হত্যার জন্য দায়ী। ২০১২ সনে সন্ত্রাসী আক্রমণে সারাবিশ্বে মারা যায় ১১,১৩৩ জন, ২০১৩ নাগাদ তা বেড়ে হয় ১৭,৯৫৮ জন।
সন্ত্রাসী আক্রমণে সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হল ইরাক। এরপর আফগানিস্থান, তৃতীয় পাকিস্তান, চতুর্থ নাইজেরিয়া, পঞ্চম সিরিয়া। এই পাঁচটি দেশের সন্ত্রাসী আক্রমণের মোট হিসাব হলো সমস্ত বিশ্বের সন্ত্রাসী আক্রমণের ৮০%। ৮৩টি দেশে উগ্র মুসলিম, খৃষ্টান, ইহুদী, বৌদ্ধ, কম্যুনিস্ট দ্বারা সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়েছে।
যে ধরনের সন্ত্রাসবাদই হোক সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসবাদের স্বপক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রভাব ফেলে। সমীক্ষাও বলে দিচ্ছে ভারত বর্ষের বুকে সন্ত্রাসী হিসাবে হিসাবে যত না মুসলিম জড়িত বামপন্থী ও হিন্দুপন্থী সন্ত্রাসীরা তার থেকে কম জড়িত নয়। অথচ বিচারাধীন বলে মুসলিমরাই ধৃত হয়। অর্থাৎ সন্ত্রাসী বলে বহু নিরীহ মানুষ বিশেষ করে মুসলিমদের হাজতবাস করতে হয়, বিচার ও শাস্তির খাঁড়া ঝোলে। অবশেষে ছাড়া পেলেও তার রুটি-রুজির অনিশ্চয়তা দেখা যায়। এ তো গেল প্রত্যক্ষ প্রভাব, পরোক্ষ প্রভাব হল আমি যে ঘটনাটি বলে প্রতিবেদন শুরু করেছি তার প্রভাব। আমার সঙ্গে আমার পরিবার না থাকলে কি হতে পারত তা ভেবে এখনও শিউরে উঠি। এই হল আমার মত ভুক্তভোগী লোকের মানসিক অবস্থা।
যে সকল মানুষ সন্ত্রাসের যাবতীয় ঘটনা খবরের কাগজ বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে পেয়ে থাকেন এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে সুদূর অবস্থানে থাকেন তাঁদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়? মাওবাদী সন্ত্রাস হলে সমস্ত অমাওবাদী আতঙ্কে ভোগে। মুসলিম সন্ত্রাস হলে প্রায় সমস্ত অমুসলিম জনতা আতঙ্কে ভোগে। এর বাস্তব প্রতিফলন হল ধর্ম ও সংস্কৃতি হারানোর ভয়। এই ভয় থেকেই তৈরি হয় অপর সম্প্রদায়ের প্রতি তীব্র অসন্তোষ, এড়িয়ে চলার প্রবণতা। অসন্তোষই অনেক সময় আক্রমণে পরিণত হয়।
ইউরোপে খ্রিস্টান মানস এমন পর্যায়ে যেখানে ফিলিস্তিনের উপর অবিচার দেখে এবং ইসলামকে জানার আগ্রহ থেকে ইসলাম গ্রহণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর একটা বিপরীত দিকও আছে। ইসলাম পরিত্যাগ করার প্রবণতাও বাড়ছে। যদিও ইসলাম গ্রহণের হার এখনও বহু বেশি। আগে ইসলামের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগলে সেটাকে গোপন রাখার প্রবণতা ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে এমন কয়েকটা ঘটনা বিশেষ করে ফ্রান্সে ঘটে গেছে যেখানে প্রকাশ্যে ইসলাম পরিত্যাগ করে হয় নাস্তিক বা খ্রিস্টান হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতার জন্যে মুসলিম সন্ত্রাসকেই দায়ী করেছেন। কোন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলে যেমন টেলিভিশনে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গী কতৃক পাশ্চাত্যের কোন দেশের কোন ব্যক্তির গলাকাটা দৃশ্য দেখালে বর্বরতার দিকটি প্রকাশ পায়। যদিও এর থেকে বেশি বর্বরতা মুসলিম দেশগুলোতে ঈসরায়েলি বা মার্কিন-ব্রিটিশ সেনা দ্বারা ঘটে গেছে বা ঘটছে। তবুও সাধারন মানুষের মনে গলাকাটা দৃশ্য দেখে ইসলামের প্রতি তীব্র ঘৃণা জন্মায়। এই ধরনের মানুষ মুসলিমদের মধ্যেও দেখা যায়, এই বর্বরতার কোনো সদুত্তর না পেয়ে এদের মধ্যেই প্রকাশ্যে ইসলাম পরিত্যাগের ঘটনা ঘটে।
নাইজেরিয়ার কানো শহরের প্রধান মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় বোমা বিস্ফোরণে ১০০ জনের মৃত্যুর ঘটনা বলে দিচ্ছে ইসলামী সন্ত্রাসের বলি হচ্ছে নিরীহ মুসলিমরা। পাকিস্তানের সামরিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের হত্যার মধ্য দিয়ে কি ধরনের ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে? ১৫০ জন ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুর লাশের উপর দিয়ে কারা হাঁটছে? সমীক্ষা থেকে জানতে পারছি সন্ত্রাসবাদের শিকার এক দুই থেকে পাঁচ নম্বর দেশটি হলো মুসলিম অধ্যুষিত। একমাত্র নাইজেরিয়া দেশটিতে ৫৫% মুসলিমের বাস, বাকি দেশগুলোতে ৮০-৯০% মুসলিমের বাস। বোকো হারামের আক্রমণ নাইজেরিয়ার উত্তরাংশে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বেশি। ইরাক বাদে বাকি দেশগুলিতে সুন্নি মতাবলম্বিদের বাস বেশি।
শিয়া-সুন্নি যাইহোক সন্ত্রাসবাদের শিকার মুসলিমরাই এবং সন্ত্রাসী বেশি মুসলিমদের মধ্যেই। সন্ত্রাসবাদের উদ্ভবের কারণ যাই হোক শিকার কিন্তু মুসলিমরাই। এর শিকাররা আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়াই ফুস করে পৃথিবী থেকে মুছে যায়। কারণ হিসাবে আগ্রাসী মার্কিন নীতিকে দায়ী করলেও এই মুহূর্তে মুসলিমরা নিজেরাই ভাতৃঘাতী লড়াইয়ে ব্যস্ত। যে যাই বলুক সন্ত্রাসবাদের মূল বলি মুসলিমরা। মার্কিন বা পাশ্চাত্য আগ্রাসনের ফলস্বরূপ সন্ত্রাসবাদের উদ্ভবের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল পাকিস্তান। ২০০১-এর আফগানিস্থানে ও ২০০৩-এর ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের আগ্রাসনের পরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো গালভরা আওয়াজ তুলে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের প্রবেশ ঘটানো হয়। এমনকি ২০০৪ থেকে বেশ কিছু মসজিদ উপাসনাগৃহ বলে রেয়াত করা হল না। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর মসজিদ আক্রমণ ছিল সাধারন ব্যাপার। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের নামে পাশ্চাত্যের ধূর্তামির শিকার হলো মুসলিমরা। যেখানে পাশ্চাত্যকে মুসলিম নিধনের জন্য অস্ত্রবল, লোকবল বা অর্থবল ক্ষয় করতে হলো না। পারস্পরিক লড়াইয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। যে সকল দেশ সন্ত্রাসবাদের শিকার সে সকল দেশের মানুষ পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে যাবতীয় উন্নয়নের আশা করে না।
ইরাক বা সিরিয়ার মত একদা উন্নত দেশে কয়েক লক্ষ মানুষ আগ্রাসনের বলি হওয়ায় পর গৃহযুদ্ধের বলিও লক্ষাধিক মানুষ। এর থেকেও অধিক সংখ্যক মানুষ দেশছাড়া হয়ে তাবুতে বাস করছে। তাঁবুবাস মানে খাদ্য ও পরিধেয়র সমস্যা কিছুটা মিটলেও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার নুন্যতম সুযোগ থাকে না। ফলে শিশুদের উপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়া ছাড়াও পরবর্তী প্রজন্ম অস্বাস্থ্য, অশিক্ষা ও কুশিক্ষার বলি হয়। কেউ কেউ হতাশার বলি হয়ে মাদক সেবন ও চোরাচালানসহ নারী ও শিশু পাচার, বেশ্যাবৃত্তি ইত্যাদি নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা ‘কান্ট্রি থ্রেট ইন্ডেক্স’ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপর জারি করা জঙ্গী সর্তকতা, জঙ্গী দ্বারা নিহত, নাশকতার মোট ঘটনা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি পরিকাঠামো বিচার করে সন্ত্রাসবাদের শিকার ১০টি ভয়ঙ্কর দেশের তালিকা প্রস্তুত করেছে। বলাই বাহুল্য শীর্ষে ইরাক, তারপর নাইজেরিয়া, তিন নম্বরে সোমালিয়া, চার আফগানিস্তান, এরপর ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া ৮ নম্বরে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। ৯ নম্বরে মিশর এবং ১০-এ কেনিয়া। এরমধ্যে কেনিয়াতে খ্রিষ্টানের সংখ্যা বেশি হলেও মুসলিম প্রচুর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার পূর্বপুরুষের দেশও বটে। কেনিয়াতে সন্ত্রাস বিস্তারের কারণ ধরা হচ্ছে সোমালিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী আস-সাবাবের বিরুদ্ধে কেনীয় সরকারের সোমালি সরকারকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত এবং কেনীয় সরকারের ফৌজ প্রেরণ। ভয়ঙ্কর দেশ মানে যেখানে পরিকাঠামো উন্নয়ন থমকে ফলে পর্যটন দ্বারা অর্থ উপার্জনও বন্ধ।
নতুন গতি ১২.০১.২০১৫
সংযোজন: লিখেছিলাম সাড়ে পাঁচ বছর আগে। এই মুহূর্তে মুসলিম দেশগুলিতে সন্ত্রাস নেই বললেই চলে যেটুকু আছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ভারতবর্ষে আরবি নামধারীদের সন্ত্রাস কোনদিনই অন্যান্য সন্ত্রাসকে ছাপিয়ে যায়নি। বরং বিশ্বে এখন বিভিন্ন উগ্র অস্ত্রধারীদের সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে, নিউজিল্যান্ডে, ভারতে আর্যমনস্ক, শ্বেতকায়দের সন্ত্রাস রাষ্ট্রীয় ও অন্যান্য সংগঠন দ্বারা পুষ্টি লাভ করেছে। জায়নবাদ সন্ত্রাসের উদ্ভবের কারণ। ওদের ইরগুন ইত্যাদি সন্ত্রাসী সংগঠন ফিলিস্তিনের প্রকৃত নাগরিকদের উপর হামলে পড়ে আজকের ইসরাইল সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাস আমাদের মননে, এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল যখনই আপনি শ্বেতকায়, আরএসএস, বজরং বা জায়নবাদী সন্ত্রাস নিয়ে বলতে যাবেন তখনই একদল লোক কোন এককালে ঘটে যাওয়া আরবি নামধারী সন্ত্রাসীদের উল্লেখ করে বলবে, একেই বলে সন্ত্রাস। বর্তমানে না ঘটতে থাকা সন্ত্রাস বর্তমান কালের সন্ত্রাসীদের মননে, চিন্তনে।
সাম্প্রতিক মুর্শিদাবাদ-কেরালায় আল কায়েদা সদস্য ধরা পড়ার প্রেক্ষিতে ২০১৪ অক্টোবরে খাগড়াগড় কান্ডের পুনরাবৃত্তি মনে হল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *