আবদুল্লাহ শাকির ● আমার জীবনের সবচেয়ে আতঙ্কের দিনটি হলো ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের দিন। সেদিন মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। অনুভব করেছি। সকাল নয়টার দিকে আমরা শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামাকে রিসিপ করার জন্য আজিমুদ্দীন স্টেডিয়ামে অপেক্ষা করছি। হেলিকাপ্টার থেকে নেমে হুজুর সরাসরি শোলাকিয়া যাবেন। এটাই পূর্বসিদ্ধান্ত এবং প্রতিবার তিনি এমনটিই করেন। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? তিনি তার অভ্যাসের ব্যত্যয় ঘটিয়ে চল্লেন সার্কিট হাউসে। জরুরত সারার জন্য। আল্লাহ তার প্রিয় এই বান্দাকে রক্ষা করবেন বলেই হয়তো প্রকৃতির এই অমোঘ আহ্বান।
এর কিছুক্ষণ পরেই খবর এলো শোলাকিয়ায় বোমা হামলা হয়েছে। আমার গা শিউরে উঠলো। আমি স্থির থাকতে পারছিলাম না। শোলাকিয়ায় থাকলে জানি না আজ কী হতো। হুজুরকে টার্গেট করেই ওরা হামলা করেছিলো। কিন্তু কাছে আসতে পারেনি। এই প্রথম পুলিশ ভাইদের আত্মদানের এবং দেশের জন্য লড়াই দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। পরে আমরা হুজুরের পেছনে সার্কিট হাউজেই ঈদের জামাত আদায় করলাম।
হুজুরের কান্না বিজড়িত মুনাযাতের ধ্বনিতে সেদিন সার্কিট হাউজের আকাশ মাটি বৃক্ষরা কেঁপে উঠেছিলো। কিন্তু সেই নিষ্ঠুর জঙ্গিদের মন একটুও কেঁপেছিল কিনা জানি না।


