পাথেয় রিপোর্ট : কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।দেশের বৃহত্তম এই ঈদগাহ মাঠে এবার প্রায় পাঁচ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। শোলাকিয়ায় সকাল থেকে দলে দলে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিরা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ ময়দানে।
বয়ানের পর সকাল ১০টায় জামাত শুরু হয়।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিদের এই বৃহৎ জামাতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শায়খুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বাংলাদেশের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন আল্লামা মাসউদ।তিনি তার দোআয় দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের সর্বত নিরাপত্তা কামনাসহ বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় ও মুসলিম সম্প্রদায়ের পরস্পর ঐক্যের ফরিয়াদ করেন।
দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় স্থানীয় প্রশাসন।মোতায়েন করা হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং জেলা পুলিশের সহস্রাধিক সদস্য।মাঠের ভেতর ও বাইরে সিসি ক্যামেরা ছাড়াও পুরো মাঠ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে দুটি ড্রোন।আটটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে আগত ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।মাঠের ভেতর-বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তায় ছিল বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক দল।নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে মুঠোফোন, ছাতা বা কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।শোলাকিয়া মাঠের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণে তিনটি, পূর্বে তিনটি এবং উত্তর পাশে একটি প্রবেশপথ খোলা রাখা হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রবেশপথে আর্চওয়ে বসানো হয়। একটি পথ গাড়ি প্রবেশ করে।মুসল্লিদের যাতায়াতে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। নামাজ শেষে কুমিল্লা থেকে আসা আবু বক্কর(৬৫), নরসিংদী রায়পুরা থেকে আসা আবদুল মোতালেব(৫৮)ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা মো. আজহার মিয়া(৬১)বলেন, নামাজ আদায়ে তাঁরা এক দিন আগেই এসেছিলেন।মাঠের পাশে আজিমুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে তাঁরা রাত যাপন করেন। শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন।তাঁরা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে তাঁরা এ মাঠে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।
লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম এবং শান্তিতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পাথেয় টোয়েন্টিফোরডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শোলাকিয়ার ইমাম আল্লামা মাসউদ জানান,এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে লোকজনের সংখ্যা বেশী ছিলো।আবহাওয়া প্রকৃতির অবস্থাও ছিলো বেশ অনুকূলে।এ ছাড়াও প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসল্লি শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেছেন। ২০১৬ সালের ঈদের অপ্রত্যাশিত হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মাঠে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এদিকে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা ঘরে ফেরায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ। মসনদ-ই-আলা ঈশাখার ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্ব পাশে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, এই মাঠে প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেন। এ কারণে এর নাম হয় সোয়া লাখ। পরে উচ্চারণ পরিবর্তন হতে হতে শোলাকিয়া মাঠ নামে পরিচিতি পায়।


