পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর মেরুর সাগরের বরফ গলে কমে যাচ্ছে, ফলে মেরু অঞ্চলে থাকা শ্বেত ভাল্লুকগুলো তাদের শিকারের অভ্যাস পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছে। তারা বরফের রাজ্য থেকে বেরিয়ে ভূমিতে এসে খাবার খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, যা মানুষের সঙ্গে তাদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি করছে।
এদিকে অসংখ্য শ্বেত ভাল্লুকের হানার কারণে রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েকদিন থেকে অসংখ্য শ্বেত ভাল্লুক মানব বসতিগুলোয় এসে হাজির হচ্ছে। খবর বিবিসির।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোভায়া যেমালয়া দ্বীপে কর্মকর্তারা জানান, এলাকাটিতে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু বিগত কয়েক দিন থেকে অসংখ্য ভাল্লুক সেখানকার অনেক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আবাসিক এবং সরকারি ভবনগুলোয় প্রবেশ করছে এসব ভাল্লুক।
খবরে বলা হয়েছে, ওই এলাকার মুল বসতি যেখানে, সেই বেলুশা গুবায় ৫২টি ভাল্লুক দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ছয় থেকে দশটি সবসময়েই সেখানে থাকছে। রাশিয়ায় এসব ভাল্লুককে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বলে তালিকাভুক্ত করেছে।
দেশটির কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ যেসব পেট্রোল বা সিগন্যাল ব্যবহার করে এসব ভাল্লুক তাড়িয়ে থাকে, তা থেকে ভীতি কেটে গেছে এসব প্রাণীর। ফলে এগুলো সামলাতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
তারা আরো জানান, ভাল্লুকগুলোকে তাড়ানোর অন্যসব পন্থা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সামনে একটি পদ্ধতিই খোলা থাকবে। তা হচ্ছে, এগুলোর মধ্য থেকে একটি অংশকে মেরে ফেলা।
স্থানীয় প্রশাসনের ডেপুটি অ্যালেক্সান্ডার মিনায়েভ বলেন, শ্বেত ভাল্লুকগুলো লোকালয়ে ছড়িযে পড়ায স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। লোকজন ভীত হয়ে পড়েছে, তাদের বাড়িঘর ছাড়তেও ভয় পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। লোকজন বাজার করতে পারছেন না।
রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তর মেরুর সাগরের বরফ গলে যাচ্ছে। ফলে শ্বেত ভাল্লুকগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।


