ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ে ক্ষুব্ধ সরকার

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ে ক্ষুব্ধ সরকার

ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে জনসম্মুখে কথা বলে রায়ের বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধŸতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার করে বলেছেন, আগে রায় জেনেছিলাম মাত্র। এবার রায়ের কপি হাতে পেলাম, দেখলাম, পড়লাম ও বুঝলাম। এ রায়ের কোথাও কোথাও সরকার এবং জনগণ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। কাজেই আপনারা যেখানেই সুযোগ পাবেন সেখানেই এসব বিষয় জনগণকে জানাবেন। কারণ, আমরা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের এসব বিষয় জানার অধিকার আছে। অন্যদিকে বিদেশে আরও সাত শহরে বাংলাদেশের মিশন স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অটিজম অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হওয়ায় অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রীসভা। গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রীরা আলোচনায় বলেছেন, সংসদ যদি ইমম্যাচিউর্ড হয় তাহলে রাষ্ট্রপতিও ইমম্যাচিউর্ড। আর রাষ্ট্রপতি যে প্রধান বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে প্রধান বিচারপতি করেছেন তিনি কি ইমম্যাচিউর্ড হতে পারেন। এছাড়া ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কপি নিয়ে আইনমন্ত্রী আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। প্রায় দুই ঘণ্টা তা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। অনির্ধারিত বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রায়ের কপি উত্থাপন করে রায়ের বিভিন্ন পয়েন্ট উল্লেখ করে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু আনা হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় ছিল না। যেমন পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংশোধনীও টেনে আনা হয়েছে। এ রায়ে সংসদকে ইমম্যাচিউরড বলা হয়েছে। এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলা হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ক্ষুব্ধ সরকার। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পরিষদের সদস্যরা। এছাড়া এ রায়ের অনেক বক্তব্যকে আপত্তিকর বলে অভিহিতও করেছেন তারা। এমনকি এসব আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির বরাবর লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও রায়ে আরও অনেক আপত্তিকর বিষয় আনা হয়েছে বলে বৈঠক জানান আইনমন্ত্রী। বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিক জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও কানাডার টরেন্টোসহ সাত শহরে বাংলাদেশের আরও সাতটি নতুন মিশন স্থাপন এবং ইতোমধ্যে স্থাপিত ১৭টি মিশনকে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সভা শেষে সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানের কাবুল, সুদানের খার্তুম, সিয়েরালিওনের ফ্রি টাউন, রোমানিয়ার বুখারেস্ট, ভারতের চেন্নাই, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এবং কানাডার টরেন্টোতে বাংলাদেশের নতুন মিশন হবে। এ ছাড়া ১৭টি মিশন ২০১৪ সাল থেকে কাজ চালিয়ে আসছে, যেগুলোর অনুমোদন আগে নেয়া হয়নি। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী মিশন স্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হয়। এ কারণে এখন ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন করে স্থাপনের অনুমোদন দেয়া মিশনগুলোর মধ্যে চারটি মিশন আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ওই চারটির সঙ্গে আরও তিনটি নতুন মিশন খোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে চালু থাকা মিশনগুলো হলোÑএথেন্স, মিলান, মুম্বাই, ইস্তাম্বুল, লিসবন, কুনমিং, বৈরুত, মেক্সিকো সিটি, ব্রাসিলিয়া, পোর্ট লুইস, কোপেনহেগেন, ওয়ারশ, ভিয়েনা, আদ্দিস আবাবা, আবুজা, আলজিয়ার্স ও গোয়াহাটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *