সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করুন

সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করুন

সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করুন

‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মর্যাদা ও খতমে নবুওয়াত’ শীর্ষক সেমিনারে মধুপুর পীর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মর্যাদা ও খতমে নবুওয়াত’ শীর্ষক সেমিনার রোববার (ঌ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা রশিদ আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরের পীর। তিনি বলেন, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারীরা ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ নাম নিয়ে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে চলছে। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানারকম কুৎসা রটনা থেকে শুরু করে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আঘাত হেনেছে। যা কোনো মুসলমান মেনে নিতে পারে না। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা.-কে অস্বীকার করে তারা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে তার স্থানে বসিয়ে সরলমনা মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা কোন কুলাঙ্গারকে খতমে নবুওয়াতের সুমহান সিংহাসনে দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার মুসাইলামাতুল কাযযাব এর বিরুদ্ধে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধে ১২ জন সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত হেফাজত হয়েছিল। বাংলাদেশেও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায় করতে হলে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হবে।

কাদিয়ানীরা শুধু ইসলামের শত্রু নয় তারা দেশ ও বিশ্ব মানবতার শত্রু বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের এ ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত। যারা তাদের কাফের মনে করে না তারাও কাফের। তাদের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নাই। পৃথিবীর সব মুসলিম দেশেই তারা কাফের। একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রদান করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এতে চিরদিন সকল মুসলমানদের হৃদয়ে স্থান করে নিবেন।

মাওলানা আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে এদেশের হিন্দুরা হিন্দু নামে, বৌদ্ধরা বৌদ্ধ নামে এবং খ্রিস্টানরা খ্রিস্টান নামে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করেছে। কিন্তু কাদিয়ানীরা মুসলমান নাম ধারণ করে সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমান বিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা ইসলাম ধর্মের অবমাননার শামিল। তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না ।

মাওলানা শফিক সাদী, মাওলানা আহমদুল্লাহ ও হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন মোল্লার পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন আওলাদে রাসূল সা. মুফতি আফফান মানসুরপুরী, দারুল উলূম দেওবন্দের মুহাদ্দিস মুফতি হাবীবুর রহমান আজমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, বাহাদুরপুর পীর মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতি মুহাম্মদ ইমাদুদ্দিন, মুফতি আব্দুল্লাহ বিক্রমপুরী, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী, হাফেজ মাওলানা ক্বারী আবুল হোসাইন, মুফতি মুজিবুর রহমান, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি নেছার আহমদ, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবদুল লতিফ ফারুকী, মুফতি আবুল কালাম আজাদ আনওয়ারী ও হাজী নাসির মাহমুদ প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *