সন্ত্রাসবাদকে ধর্মের সঙ্গে মিলানো ধর্মের অবমাননার শামিল : মাহমুদ মাদানী

সন্ত্রাসবাদকে ধর্মের সঙ্গে মিলানো ধর্মের অবমাননার শামিল : মাহমুদ মাদানী

ভারতের কার্ডিনালের সঙ্গে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

সন্ত্রাসবাদকে ধর্মের সঙ্গে মিলানো ধর্মের অবমাননার শামিল : মাহমুদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সিরিজ বোমা হামলা ও তার পরবর্তী অবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য জমিয়তে উলামা হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর নেতৃত্বে ভারতের ক্যাথলিক খৃষ্টানদের ধর্মগুরু কার্ডিনাল অসওয়াল্ড গ্রাসিয়াসের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

শনিবার (৪ মে) ভারতের মোম্বাইয়ে কার্ডিনালের নিজ বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন জমিয়তে উলামা হিন্দের এই প্রতিনিধি দল। জমিয়তে উলামা হিন্দে প্রেস সেক্রেটারী মাওলানা আজিমুল্লাহ সিদ্দিকী কাসেমী এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতে উভয় ধর্মের এই দুই বিশ্বনেতা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একাত্মতা পোষণ করেন এবং গণমাধ্যম পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় সন্ত্রাসবাদকে কোন ধর্ম সমর্থন করে না, ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ধর্মের অবমাননার শামিল। এই কথার উপর তারা স্বাক্ষর করেন।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী তখন ভারতের মুসলমানদের পক্ষ থেকে খৃষ্টান ভাইদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় সারা ভারতের মুসলমানরা উদ্বিগ্ন। তিনি কার্ডিনালকে জমিয়তে উলামা হিন্দের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকার আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাতে উভয় ধর্মীয় নেতার মধ্যে যে আলোচনা হয় তার সারমর্ম হলো— সব ধর্মের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ নিজেদের সকল কাজকর্মে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য শিক্ষা দেন, ধর্মকে সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। তারা বলেন, সন্ত্রাসবাদকে ধর্মের নামে চালিয়ে দেয়া সবচেয়ে জঘন্য ও গর্হিত কাজ। এর দ্বারা সমাজের সর্বস্তরে শান্তি, নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটে। ফলে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে।

শ্রীলঙ্কায় হামলার প্রসঙ্গে তারা বলেন, ধর্মের লেবাসধরে জঙ্গি হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা ধর্মের অবমাননার প্রয়াস চালিয়েছিল। কিন্তু, আজ সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে। ফলে, তাদের কু চক্রান্ত এখন সাধারণ মানুষের নিকট স্পষ্ট। যে সকল লোকেরা ধর্মকে অবমাননা করতে চেয়েছিল, তারা দেশ, জাতি ও সমাজের শত্রু। তারা মানবতা, মনুষ্যত্বকে হত্যা করেছে। অবশ্যই তারা অনেক বড় শাস্তির সম্মুখীন হবে। এধরনের সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা হবে।

শ্রীলঙ্কায় ঘটে যাওয়া ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা ধর্মের উপর কালেমা লেপন ও ধর্মীয় পারস্পারিক সহানুভূতি শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে ভেঙে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এর মোকাবেলায় সারা ভারতের মুসলমান ও খৃষ্টানদের এক প্লাটফর্মে এসে রুখে দাঁড়াতে হবে।

তারা বলেন, সন্ত্রাসীদের আগ্রাসন বন্ধ করতে হলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পারিক সহাবস্থান তৈরী ও ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে তুলতে হবে। আর সাধারণ মানুষের মাঝে নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার আবশ্যকীয় করে দিতে হবে।

জমিয়তে উলামা হিন্দের প্রতিনিধি দলে মাওলানা মাদানীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামা হিন্দ মহারাষ্ট্রের মহাসচিব হাফেজ নাদিম সিদ্দিকী ও রাজনৈতিক সচিব মাওলানা হুজায়ফা কাসেমী প্রমুখ।

গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, দিল্লি, জমিয়তে উলামা হিন্দ কেন্দ্রীয় অফিস
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির ও আদিল মাহমুদ

02
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একাত্মতা পোষণ করে সমঝোতা স্বাক্ষরেরর পর নেতৃবৃন্দ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *