সফলতার চাবিকাঠি খোদাভীতি

সফলতার চাবিকাঠি খোদাভীতি

সফলতার চাবিকাঠি খোদাভীতি

মুহাম্মাদ আইয়ুব : সফল হওয়ার জন্য মানুষ উর্ধশ্বাসে দিগ্বিদিক ছুটছে। এ লক্ষ্যে দিন-রাত একাকার করে ফেলছে। ক্ষমতার মাঠে, বিলিনিয়রের ময়দানে, সেলিব্রিটির মঞ্চে, সোশ্যালমিডিয়ার জগতে, রূপালি দুনিয়ায়, অ্যথলেটের ভুবনে। মোটকথা সবাই যার যার যোগ্যতা, ভাললাগা ভালোবাসা, আগ্রহের পিছনে সফলতার লক্ষ্যে ছুটছে তো ছুটছেই। আজ্রাঈল (আঃ) ছাড়া এদের থামানোর কেউ নেই।

প্রিয় পাঠক! আপনার কাছে আমার ছোট্ট একটি প্রশ্ন,
আপনার কি মনে হয়, দিন শেষে এরা সফল?
আপনার দৃষ্টিতে যদিও ওরা সফল কিন্তু আমার কাছে ছাই ছাড়া কিছুই না। চোখ বন্ধ হলেই সব সফলতা  ফানুসের মত চুপসে যাবে। তখন আমি করব? রাজাগিরি, ডলার, এই কাপ, সেই কাপ, বিশ্বকাপ, সুনাম, আর মশহুর আইডি ধুয়ে তো পানিও খাওয়া যাবেনা! ওপারের জগতে পানি খেতে হলে আমাকে হাঁটতে হবে এক ভিন্ন পথে। যে পথের কথা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অসংখ্য অগণিত বার বলেছেন, ‘হে মানুষ! হে ইমানদারগণ! তোমরা আমাকেই ভয় কর।’

আল্লাহর ভয়ে অর্জিত সম্পদ : আল্লাহর ভয়ের ফলাফল এই হবে যে, তখন খোদাভীরুরা  মহান মাওলার কাছে জগতের সবচাইতে শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে বিবেচিত হবেন। কি! বিশ্বাস হয়না? আসুন তাহলে স্বয়ং আল্লাহ পাকের ঘোষণা শুনিয়ে দিই।

‘নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে আল্লাহর নিকট সবচাইতে সম্মানিত ঐ ব্যক্তি, যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু।’ {সুরা হুজুরাত,আয়াত নং ১৩}

শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত হওয়ার উপায় স্বয়ং আমাদের সৃষ্টিকর্তা বাতলে দিয়েছেন। এবার ডিসিশন আমাদের। জনগনের ত্রাণের চাল, ডাল, তেল চুরি করে ধিকৃত হব নাকি আল্লাহর ভয়ে যার মাল তার কাছে পৌঁছে দিব! লোক দেখানোর জন্য কৃষকের কাঁচা ধান কেটে তাকে বিপদে ফেলব নাকি আল্লাহর ভয়ে সময়ের কাজ সময়েই করব! করোনার ভয়ে নামাজ কালাম ছেড়ে হাসি তামাশায় মত্ত থাকব নাকি আল্লাহর ভয়ে বেশি বেশি ইবাদাতে মনোযোগি হব! ক্ষমতার অপব্যবহার করব নাকি সদ্ব্যবহার! কারূনের মত কিপ্টুস নাকি হযরত সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) এর মত দানবীর! আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মত মুনাফিক নাকি আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের (রাঃ) মত সাচ্চা ঈমানদার! বর্তমান আরবদের মত অপচয়কারি নাকি অতীতের আরবদের মত মিতব্যয়ী। সিদ্ধান্ত নিব আমরা ফলাফল দিবেন আল্লাহ। আর ভাল সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময় দরকার। আল্লাহকে ভয় করার চেয়ে  ভাল কোন সিদ্ধান্ত দুনিয়াতে নেই আর আল্লাহ তাআলা  রমজান মাসের থেকে উত্তম সময় আর কিছুই তৈরি করেননি। সুতরাং যারা দুনিয়া ও আখেরাতে নিজেকে সফল হিসেবে দেখতে ও প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাদের জন্য রহমতের এই দিনে আল্লাহকেই ভয় করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার সেরা সুযোগ, সেরা চান্স। তাহলে আর দেরি কেন?

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *