নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি
সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আলু পটল থেকে শুরু করে কোনো সবজিই এখন আর নাগালের কাছে নেই। কাঁচা মরিচের ঝাঁঝ কমেনি অনেক দিন যাবৎ। এ থেকে শহুরী মানুষকে বাঁচাতে হবে। গত দুই দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে চলেছে। সবজির দাম বেড়েছে গড়ে চার গুণ। চাল ডাল আলুর দামও ঊর্ধ্বমুখী। আদার দাম বেড়েছে মাত্র দেড় মাসে অন্তত দ্বিগুণ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ টাকার ওপরে। সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বাড়ছে ডিমের দাম।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে দাম বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী প্রশাসনের দায়সারা তদারকির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব। করোনাভাইরাসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবজির দাম পায়নি সাধারণ কৃষক। গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত যে দামে সবজি বিক্রি হয়েছে তাতে উৎপাদন খরচ ওঠানোও সম্ভব হয়নি। কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে মাঠ পর্যায়ে ১০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে সবজি বাজারজাত করার খরচও ওঠাতে পারেনি কৃষক। গত ৪৫ দিনের বন্যায় রাজধানীসহ দেশের মহানগরগুলোয় সবজির দাম বেড়েছে চার থেকে পাঁচ গুণ। যে কাঁচা মরিচ রাজধানীতে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে দুই মাস আগে তার সর্বনি¤œ দাম ২০০ টাকা। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে চোখে শর্ষে ফুল দেখছে সাধারণ মানুষ।
এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষের আয় কমেছে। লকডাউনের সময় উপার্জন কমেছে ৯৫ শতাংশ পরিবারের। বন্যার কারণে নিত্যপণ্য বিশেষ করে সবজির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় তা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিসংবাদ সৃষ্টি করেছে। সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে তারা বিড়ম্বনার মুখে পড়ছে। ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দায়সারা তদারকির কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সন্দেহ নেই, বাজারে তদারকি বাড়ানো দরকার। তবে সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের তদারকি কোনো কাজে আসবে বলে মনে হয় না।
কৃষি পুনর্বাসনের গতি বাড়িয়ে দ্রুতই যাতে উৎপাদনের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠা যায় সে উদ্যোগ নিতে হবে।


