পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পিতৃসমতুল্য পিতা। পিতার আসনে রেখেই আমরা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলি। মাঝে মাঝে এমন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যা মেনে নেওয়াটাই কঠিন হয়ে যায়। পরিমল থেকে সিরাজুদ্দৌলা অথবা যশেরের পুরোহিত- তাদের ঘটনাগুলো আমাদের হৃদয়ে প্রচ-রকম রেখাপাত করে যায়। সত্যটা লুকিয়ে থাকে না। খুনি বা যেকোনো ধরনের অপরাধী আমরা মনে করি, সে পার পেয়ে যায়। আসলে চোরের দশ দিন আর গৃহস্থের একদিন। একসময় অসাধুরা ধরা পড়ে যায়। কারণ ভুলের কারণেই রেখে যায় আলামত। এই আলামত আর লুকাতে পারে না। জনসম্মুখে তা রটে যায়।
পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়াও তাঁদের একটি প্রধান দায়িত্ব। এ জন্য শিক্ষকদের নীতিবান ও আদর্শস্থানীয় মানুষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চারদিকে আমরা এসব কী দেখছি? শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে ছাত্রদের বাধ্য করেন তাঁদের কাছে কোচিং নিতে। শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে আরো বহুবিধ গুরুতর অন্যায়ের অভিযোগ উঠছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
তারই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩৮ মণ বিনা মূল্যের বই পুরনো কাগজের দোকানে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১২ টাকা কেজি দরে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, বিনা মূল্যে বিতরণের একটি বই কোনোভাবেই বাইরে বিক্রি করার নিয়ম নেই। তাহলে বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা এ কাজটি করলেন কিভাবে?
প্রতিবছর বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে এসব বই ছাপানো হয়। উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত বই দেওয়া এবং অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর যেন পাঠ্যক্রম শুরু করতে দেরি না হয়, তা নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষার্থী অনুযায়ী বইয়ের চাহিদা দেয় এবং সে অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে বই সরবরাহ করা হয়। ফলে অতিরিক্ত বই আসা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি কোনো শিক্ষার্থীর বই না পাওয়ারও কথা নয়। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী সব বই পায় না। সূত্রমতে জানা যায়, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা আশা করি, দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাহলেই এই অমানবিক ধ্বংসাত্মক কর্মকা- থেকে নৈতিকতা বিবর্জিত লোকে দমবে এবং শিশুরা তাদের সঠিক পরিচর্যা পাবে।


