পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাখনৌয়ের দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলমান আছে। এর প্রভাব ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ ও দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) দারুল উলূম দেওবন্দে শুরু হয় বিক্ষোভ। দফায় দফায় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষকদের আহ্বানে বিক্ষোভ থেকে ফিরে যায় দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষার্থীরা।
তবে দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভে থেকে দূরে রাখতে মাদরাসায় পুলিশি টহল চলছে। শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহরানপুর জেলার ইন্টারনেট সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অফিসাররা দেওবন্দের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দারুল উলূম দেওবন্দসহ দেশের সব মাদরাসায় ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছেন। তবে সরকারের এ আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেওবন্দ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষনিকভাবে মাদরাসা না ছাড়তেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, ‘প্রশাসনের গোপন পরিকল্পনার বিষয়ে শুরার সদস্যদের অবহিত করা হবে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শুরার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় মাদরাসাগুলো ছুটির দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে, দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস ও জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষার্থীদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে মাওলানা মাদানী বলেন, ‘প্রিয় সন্তানেরা! সরকারের মুসলিমবিরোধী আইনের কারণে আমাদের অন্তরেও রক্ষক্ষরণ হচ্ছে। বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তবুও সকালে তোমাদের দরস শেষ করে দিল্লিতে ছুটে যাচ্ছি আবার ফিরে এসে পরদিন তোমাদের ক্লাস করাচ্ছি, কীসের জন্য? তোমাদের নিরপত্তার জন্য, দেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য। তোমাদের মুহতামিম সাহেব ও শিক্ষকরা সারাদিন ছুটোছুটি করছেন, কীসের জন্য?’
মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদনাী বলেন, সামান্য কয়েকজনের আন্দোলনের ফলে যেন দেওবন্দ মাদরাসা বন্ধ না হয়ে যায়। আন্দোলন যদি করতেই হয় তবে দেওবন্দ ছেড়ে জমিয়তে যোগ দাও। মাদরাসা বন্ধ হলে আল্লামা কাসেম নানুতুবী, হুসাইন আহমদ মাদানী, মাওলানা আশরাফ আলী রহ.কে কী জবাব দেবে।
পা.টো.ড/আ


