সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হলো : মির্জা ফখরুল

সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হলো : মির্জা ফখরুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তাকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আর তা না হলে আজকে থেকে আপনাদের পতনের আন্দোলন শুরু হলো।

শনিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি ও বিদেশের উন্নত চিকিৎসার দাবিতে গণঅনশনে তিনি কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের এ গণঅনশন থেকে সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তাকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আর তা না হলে গণঅনশনের মধ্য দিয়ে আজকে আন্দোলন শুরু হলো, সরকার পতনের।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা আমাদের জীবন-মরণেরর সমস্যা। আমাদের অধিকারের সমস্যা। ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সমস্যা।’

‘খালেদা জিয়া দেশের মাটির সাথে অবিচ্ছেদ্য। আমাদের মা এবং মাটি বলতে খালেদা জিয়াকে বুঝি। এ নেত্রীকে অবশ্যই আমাদের মুক্ত করতে হবে। তার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা প্রস্তুত আছি,’ বলেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন দুই হাত তুলে শপথ গ্রহণ করি, দেশনেত্রীকে তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

বিএনপি মাহসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজকে এত অসুস্থ, তিনি আজকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি বারবার, বিদেশী ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছেন বাংলাদেশে যা চিকিৎসা দেয়া সম্ভব এখানে তারা তা দিচ্ছেন, দিয়েছেন। তার কিছু জটিলতা আছে বিদেশে আরো অ্যাডভান্স সেন্টার ট্রিটমেন্ট না হলে তাকে সুস্থ করা যাবে না। তার পরিবার থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্য, তারা সে সুযোগ দেয়নি। ফিরিয়ে দিয়েছে। উপরন্তু পার্লামেন্টে সংসদ নেত্রী এমন ভাষায় কথা বলেছেন, যে ভাষা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এবং মিথ্যাচর করেছেন আইনমন্ত্রী। ৪০১ ধারায় সরকারের সম্পূর্ণ অধিকার আছে। এবং এটা তাদের দায়িত্ব। নির্দেশ দিয়ে বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে।

কর্মসূচি ঘোষণা

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আগামী ২২ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমদের সমাবেশ। একইসাথে সারা দেশে মহানগর, জেলা এবং উপজেলাগুলোতে সমাবেশ হবে। আমরা আবারো এই দাবি নিয়ে সামনে আসবো। তারপরও যদি না হয় আবারো কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *