সহিংসতা রুখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত

সহিংসতা রুখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত

নির্বাচনী হালচাল

সহিংসতা রুখতে প্রয়োজনীয়

সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: ইতোমধ্যেই রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে উৎসবমুখর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে মানুষ। কিন্তু উৎসব নষ্ট হয় সহিংসতায়। এই সহিংসতা রুখতে না পারলে দেশের কোনো উৎসবই ঠিক ঠিক পালন করা সম্ভব নয়। অনাস্থার ভোট যেমন পরিহার করা উচিত তেমনি নির্বাচনে সহিংসতাও রুখে দেয়া সময়ের দাবি। নির্বাচনে সন্ত্রাস-সহিংসতা দানা বেঁধে উঠলে তা তার পবিত্রতা হারায়।

সিটি নির্বাচনে সে আশঙ্কাই দানা বেঁধে উঠছে দুঃখজনকভাবে। গত সোমবার মিরপুরে উত্তর ঢাকা সিটির একজন মেয়র প্রার্থী আক্রান্ত হয়েছিলেন দুর্বিনীত এক কাউন্সিলর প্রার্থীর নেতৃত্বাধীন লাঠিসোঁটাধারীদের হাতে। রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গোপীবাগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে ৪০ মিনিট ধরে। দুপুর ১টার দিকে সংঘটিত ওই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয়। হামলার মধ্যে গুলি ছোড়ার শব্দও শোনা যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন হামলাকারীদের নৌকা সমর্থক বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘গোপীবাগে নৌকার ক্যাম্পে হামলা হয়েছে। বিরোধীপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি করেছে।’ যারা এ সন্ত্রাস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছেন তিনি। মিরপুরের মতো গোপীবাগকান্ডে হামলার সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম উচ্চারিত হচ্ছে। উত্তর ঢাকার মেয়র নির্বাচনে তাবিথ আউয়ালের পর দক্ষিণ ঢাকার বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী কর্মকান্ডের ওপর হামলা সরকারি দলের জন্যও বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হোক- সরকারপ্রধানের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি সত্ত্বেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এক বড় অংশ বিতর্কিত হওয়ায় অনভিপ্রেতভাবে সন্ত্রাস দানা বেঁধে উঠছে।

মেয়র নির্বাচনের কোনো প্রার্থী ও তাদের কর্মীবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বাড়াবাড়ি অনাকাক্সিক্ষত উষ্ণতা সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে হামলাকারীদের রুখতে। না হলে ভোট কোনো উৎসব হবে না। ভয় ও আতঙ্ক দূর করার দায়িত্ব প্রশাসনের। উদ্যোগী হলেই সেটা সম্ভব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *