সাজিদ জাভিদ প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ব্রিটেনে?

সাজিদ জাভিদ প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ব্রিটেনে?

সাজিদ জাভিদ প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ব্রিটেনে?

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হিসাবটা কি তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আ্ওয়াজ উঠেছে জোরসে। প্রথম সাজিদ জাভিদ মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ব্রিটেনের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। তেরেসা মে’র স্থলাভিষিক্ত হলে তিনিই হবেন দেশটির প্রথম কোনো মুসলমান প্রধানমন্ত্রী।
৪৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদের নাম বৃটেনের সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাজিদ জাভিদ ছাড়াও বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছেন বরিস জনসন, জেরেমি হান্ট, ডোমেনিকান রব, মাইকেল গভ ও আন্দ্রে লিডসাম।
ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন সম্পর্কিত সরকারি নীতি নিয়ে কেলেঙ্কারির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড পদত্যাগ করলে পরদিনই তার জায়গায় নিয়োগ পান সাজিদ জাভিদ।
অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থী সাজিদ জাভিদ ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন। সাবেক এ বিনিয়োগ ব্যাংকার ২০১৮ সালের এপ্রিলে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান।

এদিকে ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। আগামী ৭ জুন তিনি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের ব্যাপারে তার নতুন পরিকল্পনা মন্ত্রিসভায় ও পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে না এটা স্পষ্ট হওয়ার পরই তার পদত্যাগের ঘোষণা এলো।

শুক্রবার লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এক আবেগপূর্ণ বিবৃতিতে মিসেস মে তার বিদায়ের কথা ঘোষণা করেন। সংক্ষিপ্ত বিবৃতির শেষে তার গলা ভেঙে আসে, চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।

তবে কনজারভেটিভ পার্টি একজন নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

থেরেসা মে বলেছেন, তিনি আশা করেন তার উত্তরসূরি যিনি হবেন তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে পারবেন, যার পক্ষে ২০১৬ সালের গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

ব্রেক্সিট কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে থেরেসা মে’র পরিকল্পনাটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতাদের অনুমোদন পেয়েছিল, কিন্তু ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এটি পর পর তিন বার তুলেও তা পাস করাতে ব্যর্থ হন মিসেস মে।

আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এ বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দেশটির পার্লামেন্ট।

এরপর তিনি বিরোধীদল লেবার পার্টির সাথে আলোচনা করে সংশোধিত আরেকটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, কিন্তু এর যে তীব্র বিরূপ সমালোচনা হয় তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে ক্ষমতাসীন কনসারভেটিভ পার্টি ও পার্লামেন্ট- কোথাও এটা পাস করানো যাবে না। এর পরই মিসেস মে’কে পদত্যাগের জন্য পার্টি চাপ দিতে থাকে।

অবশেষে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মিসেস মে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *