শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.এর মহামূল্যবান বাণী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একবার তাবলীগের পক্ষ ও বিপক্ষের বিভিন্ন ইশতেহার শায়খুল ইসলামের সামনে রাখা হলো। সেসময়ে তাবলীগ বিষয়ে বাদানুবাদ সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন-
তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে মাদরাসার হুজুরদের বেশকিছু রচনা এবং পোস্টার আজকাল দেখতে পাচ্ছি। এসব রচনা ও পোস্টারে যেসব কথা লেখা হচ্ছে তাতে চরম পর্যায়ের বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন দেখা যাচ্ছে।
মূলত তাবলীগ এবং তালীম উভয়টিই আমাদের প্রয়োজন। উভয়টি ফারায়েজে ইসলামিয়্যার অন্তর্ভুক্ত। দু’পক্ষের লোকদেরই সবসময় শীরয়তের সীমানায় অবস্থান করে কাজ করা উচিত। যে কোন কাজ, চাই তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, তা যদি শরীয়তের সীমাকে লঙ্ঘন করে তাহলে অবশ্যিকভাবেই তাতে অনিষ্ঠতা এবং ফেতনার সৃষ্টি হবে।
এজন্য উভয়পক্ষের কাছে অত্যন্ত আদব ও মোহব্বতের সঙ্গে নিবেদন করবো তারা যেন ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা বজিয়ে রাখেন। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও সীমালঙ্গন থেকে বিরত থেকে যার যার কর্তব্যকর্মে নিমগ্ন থাকেন।
সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে নিয়ে আজ অবধি সবসময়ই যে ব্যক্তি বা জামাত দ্বীনের কাজ করেছে তাদের থেকে বিভিন্ন ভুল হয়ে এসেছে। কিন্তু সেসব ভুলের কারণে জরুরী কাজগুলি নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং ভুলগুলোর সংশোধন করা হয়েছে। মূল কাজ বাকী রেখে ত্রুটিগুলি ছাটা হয়েছে।
তাবলীগওয়ালারা আমাদের মতোই মানুষ। তাদের ভেতর অনভিজ্ঞ, নবদিক্ষীত মুবাল্লিগ রয়েছেন। তাদের দ্বারা অনেক সময় অনেক অতিরঞ্জন হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাবলীগওয়ালাদের কারো কোন ভুলের কারণে পুরো তাবলীগ জামাতের বিরোধী হয়ে যাওয়া মোটেও ঠিক হবে না। একই কথা তালীমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। (মাদরাসার কিছু লোকের বাড়াবাড়ির কারণে পুরো মাদরাসা শিক্ষার বিরোধী হয়ে যাওয়া অনুচিত)।
এজন্য সকল দ্বীনি ভাইয়ের কাছে আমি আশা করবো, আপনারা প্রত্যেকে একে অপরের সম্মান বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। কেউ কাউকে খাটো করার চেষ্টা করবেন না।
রস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি করে মুসলমানদের বিভেদকে বাড়িয়ে তুলবেন না। (আল্লাহ সঠিক পথপ্রদর্শন করেন এবং তিনিই সাহায্যকারী)
পূর্বসূরীদের লজ্জা-(বিনয়বশত হযরত মাদানী সবসময় নিজের নামের সাথে এই বিশেষণ যোগ করতেন)
হুসাইন আহমদ
গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : দৈনিক রোশনি, বাঙ্গোর-১৯৫৭ সালের ১৭-ই মার্চ প্রকাশিত




