‘সিএএ’ নিয়ে বিজেপি ও হিন্দুদের কোনও চিন্তা নেই : হিমন্তবিশ্ব শর্মা

‘সিএএ’ নিয়ে বিজেপি ও হিন্দুদের কোনও চিন্তা নেই : হিমন্তবিশ্ব শর্মা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের বিজেপিশাসিত অসমের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নাগরিকত্ব পেতে ধর্মসহ তিন প্রমাণ অবশ্যই লাগবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব পেতে বিজেপি ও হিন্দুদের কোনও চিন্তা নেই।

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে মূলত তিনটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানরাই কেবল নাগরিকত্ব পাবেন। তার মানে হচ্ছে আবেদনকারীকে প্রথমে নিজের ধর্ম প্রমাণ করতে হবে। সেজন্য বাংলাদেশ থেকে ‘রহমান’ উপাধির কেউ এসে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কারণ, নিজেকে ‘হিন্দু’ হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে আবেদনের সঙ্গে। দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসার প্রমাণ দাখিল করতে হবে আবেদনকারীকে। এজন্য আইনের বিধিতে কিছু সরকারি নথি চাওয়া হতে পারে। নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)নবায়নের সময় যেভাবে ১৯৭১ সালের আগের বেশ কিছু সরকারি নথি দাখিল করতে হয়েছে, সেভাবে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগের নথি জমা দিতে হবে। সেটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র, আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ইত্যাদি হতে পারে। তৃতীয়ত, কোন দেশ থেকে এসেছেন সেই প্রমাণও দিতে হবে।’

অসমের মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশ থেকে এলেই যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের অধীনে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে, তা নয়। শুধু বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু হতে হবে। সেজন্য বাংলাদেশ থেকে আসার প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে আবেদনের সঙ্গে। বাংলাদেশ সরকারের জারি করা কোনও কোনও নথিপত্র কিংবা শরণার্থীর সার্টিফিকেট, শরণার্থী শিবিরে থাকার ক্যাম্প সার্টিফিকেট ইত্যাদি নথি দেখাতে হবে। তার মানে আবেদনকারী যে কেনিয়া কিংবা শ্রীলঙ্কা থেকে আসেননি তা প্রমাণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, নাগরিকত্বের আবেদনের সঙ্গে নিজের ধর্ম, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসার প্রমাণপত্র গেঁথে দিতে হবে। আবেদনকারীদের সেই তিনটে তথ্যপ্রমাণ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভেরিফিকেশন করবে। তারপরে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রশ্ন আসবে।

এসবের পরেও অসমের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রশ্নে অসম সরকার কেন্দ্রীয় সরকারকে নাগরিকপঞ্জিতে আবেদনের তথ্য চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এপ্রসঙ্গে অসমের মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছি, অসমের ক্ষেত্রে নাগরিকপঞ্জিতে (এনআরসি) আবেদনের তথ্যপ্রমাণও যাতে প্রয়োজন হয় সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

হিমন্তের দাবি, অসমে নাগরিকপঞ্জির প্রক্রিয়ায় কেবল হিন্দু বাঙালিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সমস্ত নথিপত্র তন্নতন্ন করে যাচাই করা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। হিন্দু বাঙালিদের অনেক প্রকৃত নথিপত্র এনআরসিতে বাতিল করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা দাবি করেন।

এদিকে, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে হিমন্তবিশ্ব শর্মা এত নথিপত্রের প্রয়োজনের কথা জানালেও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এমপি অবশ্য কোনও নথির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার হাওড়ায় এক সভায় বক্তব্য রখার সময় তিনি বলেন, ‘মোদিজি সময় দেবেন তিন-চার মাস। সেই তিন-চার মাসের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী আপনাকে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। এজন্য কোনও নথিপত্র লাগবে না। আপনি বলে দেবেন যে আমি অমুক তারিখে ভারতবর্ষে এসেছি। আমার বাবার নাম অমুক ছিল। সাতক্ষীরায় অমুক জায়গায় আমার বাড়ি ছিল। এটা প্রমান্য দলিল। কোনও নথি লাগবে না। আপনি যেদিন ভারতে এসেছেন বলবেন সেই দিন থেকে আপনি নাগরিক।’

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ওঁরা ভয় দেখাচ্ছেন, বাপের জন্ম তারিখ, মায়ের জন্ম তারিখ লাগবে বলে। কিন্তু কোনও মা-বাপের জন্ম তারিখ লাগবে না। আমাদের মা-বাপ ঠিক আছে। চিন্তার কিছু নেই। যাদের মা-বাপের ঠিক নেই তাঁদের চিন্তা আছে। তাঁরাই লোককে ভুল বোঝাচ্ছে। তাঁদেরকে বলুন আগে মা-বাপ ঠিক করো।’

‘বিজেপি ও সাধারণ হিন্দু সমাজের কোনও চিন্তা নেই। আর যদি কেউ কিছু বলে আমরা আছি’ বলেও দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন।

সূত্র : পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *