সিকিমে ভারী ভূমিধসে নিহত ৬, আটকা ১৫০০ পর্যটক

সিকিমে ভারী ভূমিধসে নিহত ৬, আটকা ১৫০০ পর্যটক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের পর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম। বিশেষ করে লাগাতার বৃষ্টিতে ভূমিধসের জেরে উত্তর সিকিম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের কারণে রাজ্যটিতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আটকা পড়েছেন অন্তত দেড় হাজার পর্যটক। এ ছাড়া পর্যটনের জন্য বিখ্যাত লাচুং, লাচেনসহ বহু এলাকার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর সিকিমের মাঙ্গান জেলায় অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক ভূমিধসে কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং ১৫০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন। এ ছাড়া সাংকালাংয়ে একটি নবনির্মিত বেইলি ব্রিজ ধসে পড়ে মাঙ্গানের সাথে জংগু এবং চুংথাংয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভূমিধসের কারণে রাস্তার বিভিন্ন অংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি প্লাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুতের খুঁটিও ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
রুডংমার লেক এবং ইউনথাং উপত্যকার মতো জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোর জন্য পরিচিত মাঙ্গান জেলার জংগু, চুংথাং, লাচেন এবং লাচুংয়ের মতো শহরগুলো এখন ভারতের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন। মাঙ্গান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হেম কুমার ছেত্রি বলেন, ‘পাকশেপ এবং আম্বিথাং গ্রামে তিনজন করে মারা গেছেন।’ এ ছাড়া গেইথাং ও নামপাথাংয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত লোকদের জন্য পাকশেপে ত্রাণশিবির স্থাপন করা হয়েছে বলেও ছেত্রি জানিয়েছেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গত বুধবার রাত থেকে মাঙ্গান জেলায় এবং এর আশপাশে অবিরাম বৃষ্টিপাতের পরে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে অন্য কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন এবং তাদের উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর নির্দেশ দেন। এ দিকে উত্তর সিকিমে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঙ্গনে রেশনসহ এসডিআরফের দল পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে তিস্তা নদীতে ব্যাপক বন্যার পর সাংকালংয়ে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক সংযোগ প্রস্তুত না করা পর্যন্ত আটকে পড়া পর্যটকদের যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকতে বলা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মাঙ্গান জেলা প্রশাসন এই অঞ্চলে সড়ক সংযোগ আবার চালু করতে ফিদাংয়ে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ শুরু করেছে।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং এখন অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি নেতা পেমা খান্ডুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য রাজ্যটিতে রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত উদ্ধার কাজ ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে বলেছেন। সেখান থেকে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘরছাড়াদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে সরকার।’

ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা তদারকির জন্য শিগগিরই তিনি রাজ্যটিতে ফিরে আসবেন বলেও জানানো হয়েছে। এ দিকে তিস্তা নদীতে এখনো তীব্র গ্রোত রয়েছে যা নিম্নাঞ্চলের সিংটাম শহরের বাসিন্দাদের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। নামচি জেলায় তিস্তা নদীর পানি মেলি স্টেডিয়ামকে প্লাবিত করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে ভারতের এই হিমালয় রাজ্যে আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *