পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে দেশের ১৪ জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে দেশের ১০ হাজার ঘরবাড়ি এবং ৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি ভোলা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। এতে ৪১৯ ইউনিয়নের ১০ হাজার ঘরবাড়ি এবং ৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার কোটি ৮০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৮০ লাখ গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।”
সারা দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৮৭টি গাছ ভেঙে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ প্রথম স্থলভাগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। তবে ঝড়ের মূল কেন্দ্র রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ উপকূলে আঘাত করে। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি ভোলার উপর দিয়ে প্রবেশ করে।
ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে চট্টগ্রাম ও বরিশালের একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। উপকূলের প্রায় ১৫টি এলাকায় নদী তিন থেকে পাঁচ ফুট উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। বহু জায়গায় বাড়ি ধসে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমেছে বহু জায়গায়।
মধ্যরাতে এই ঘূর্ণিঝড়টির প্রায় সম্পূর্ণই স্থলভাগে উঠে আসার চিত্র দেখা যায় জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের স্যাটেলাইট ছবিতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক রাত ২টায় বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করেছে। এখন এটি স্থল নিম্নচাপ হিসাবে অবস্থান করছে। স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ দেখা যাচ্ছে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট হয়ে ভারতের আসামের দিকে। তবে সিত্রাং মাঝারি শক্তি নিয়ে আঘাত করেছে।”


