পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিরিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হামার পুরোপুরি দখল নিয়েছে বিদ্রোহীরা। আট দিন আগে বিদ্রোহীদের শুরু হওয়া হামলার সর্বশেষ বিজয় এটি। বিরোধীদের এই বিজয় আসাদ বাহিনীর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয় সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার বিদ্রোহীরা হামায় প্রবেশ করে। এতে সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয়।
সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এর নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি ঘোষণা করেছেন যে হামা শহরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহীরা।
মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর হামার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলো।
এছাড়া বিরোধীরা শহরের সামরিক বিমানবন্দরও দখল করে নিয়েছে। এটি সিরিয়ার সবচেয়ে বড় একটি বিমানবন্দর যা সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্যবহার করেছে।
এর আগে, একজন বিদ্রোহী কমান্ডার বলেছিলেন যে এইচটিএস যোদ্ধারা এবং তাদের সহযোগীরা সিরিয়ার একটি কারাগার দখল করেছে এবং বন্দিদের ছেড়ে দিয়েছে। এরপর সামরিক বাহিনী বেসামরিক জীবন রক্ষা করতে এবং যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে পুনরায় সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
হামা শহরটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করে। সিরিয়ার আলেপ্পো শহর থেকে ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আলেপ্পো শহরটি গত সপ্তাহে বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়ে দখল করে। উত্তর-পশ্চিমে তাদের শক্তিশালী ঘাঁটি থেকে আকস্মিক হামলা চালায় বিদ্রোহীরা।
এদিকে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বলছে, আট দিন আগে বিদ্রোহীদের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর সারা দেশে ১১১ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ৭২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং এই অস্থিরতার জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোকে দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে বিদ্রোহীরা সিরিয়ায় হামলা শুরু করার পর দেশটির প্রধান মিত্র রাশিয়া ও ইরান আসাদের পক্ষে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।


