নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস কমাতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। গত অর্থবছর বিপিডিবির সামগ্রিক সিস্টেম লস ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। চলতি অর্থবছর তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির বিতরণ সিস্টেম লস দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। যদিও বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লস ২০১৫ সালের মধ্যে সরকারের এক অংকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বিতরণে সিস্টেম লস না কমায় এখনো ওই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। সিস্টেম লস কমাতে ৬ বিতরণ কোম্পানিকে প্রি বছরই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। চলতি অর্থবছরও তা করা হয়েছে। কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জনের পথে গত সেপ্টেম্বর শেষে ৫টি বিতরণ কোম্পানি অগ্রগতি দেখাতে পারলেও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লস ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তার মধ্যে বিতরণ সিস্টেম লস ১০ শতাংশ ও সঞ্চালন সিস্টেম লস ২ দশমিক ৬৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর শেষে সামগ্রিকভাবে সিস্টেম লস দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তার মধ্যে বিতরণে ১১ দশমিক শূন্য ৭ ও সঞ্চালনে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সিস্টেম লস হয়েছে। অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) সিস্টেম লস সেপ্টেম্বর শেষে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) সিস্টেম লস গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থাকলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) সিস্টেম লসও কমেছে। গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে বিতরণ সংস্থাটির সিস্টেম লস ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সিস্টেম লস ১১ দশমিক ৬১ থেকে কমে ১০ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং নবগঠিত বিতরণ কোম্পানি নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো ) সিস্টেম লস ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর বিপিডিবির সামগ্রিক সিস্টেম লস ১০ শতাংশ, বিআরইবির ১১ দশমিক ১০, ডিপিডিসির ৮ দশমিক ২৫, ডেসকোর ৭ দশমিক ৫, ওজোপাডিকোর ৯ দশমিক ৪ ও নেসকোর ১১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত অর্থবছর সামগ্রিক সিস্টেম লসের পরিমাণ ছিল বিপিডিবির ১০ দশমিক ৯২, বিআরইবির ১১ দশমিক ৩৮, ডেসকোর ৭ দশমিক ২৪, ডিপিডিসির ৮ দশমিক ৪, ওজোপাডিকোর ৯ দশমিক ৫৭ ও নেসকোর ১১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
সূত্র আরো জানায়, সরকার জ্বালানি দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষত ব্যয়বহুল জ্বালানিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে আনতে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কারিগরি বিষয়ে নিয়মিত সভা করে দুর্বলতা নির্ণয়, স্মার্ট ও প্রিপেইড মিটার ব্যবহার, দ্রুত লোড বিভাজন এবং সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্র বাড়ানো। তবে তাতেও অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। তাছাড়া বিতরণ সিস্টেম লস এক অংকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন ও পাইকারি গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ইতিমধ্যে বিতরণ সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিস্টেম লস কমাতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাতে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল দেবে গ্রাহক। আর বিদ্যুতের অপচয়ও কমবে।


