সুইজারল্যান্ডে বোরকা নিষিদ্ধে মুসলিম-অমুসলিমদের তীব্র প্রতিবাদ

সুইজারল্যান্ডে বোরকা নিষিদ্ধে মুসলিম-অমুসলিমদের তীব্র প্রতিবাদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সুইজারল্যান্ডে পুরো মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে একসঙ্গে প্রতিবাদে নেমেছে মুসলিম-অমুসলিম জনগোষ্ঠী। গত ৭ মার্চ দেশটিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে পুরো মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করা হয়।

দেশটির মুসলিম সংগঠন দ্য সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব মুসলিম দিনটিকে ‘মুসলিমদের জন্য কালো দিবস’ বলে জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সুইস মুসলিম দলটি জানায়, এ রায় পুরনো ক্ষতকে উন্মোচন করে দিয়েছে। বিশেষত আইনি বৈষম্যকে আরো বিস্তৃত করে এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের বর্জনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

গণভোটে ৫১ ভাগ ভোটে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞা আইন ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন ও ধর্মীয় ইস্যুতে হস্তক্ষেপের শামিল বলে জানিয়েছে দেশটির ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন সুইস ফেডারেশন অব জিউস কমিউনিটি ও প্লাটফর্ম ফর লিবারাল জিউস ইন সুইজারল্যান্ড। তা ছাড়া ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্বাধীনতা আরো ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠন দুটি।

সুইস মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করার কথা জানানো হয় এবং জরিমানার শিকার নারীদের সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সুইজারল্যান্ডের দ্য ফেডারেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা আইনের নিন্দা করে বলে, সংবিধানে পোশাক কোড নির্ধারণ করা নারীর মুক্তি সংগ্রামের মধ্যে পড়ে না। বরং তা একধাপ পিছিয়ে পড়ার প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের শান্তি, সম্প্রীতি ও উদারতার ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: ফের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার হুমকি, গ্রেফতার ২

জার্মানির লুসার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা মতে সুইজারল্যান্ডের শতকরা একজনও বোরকা পরিধান করেন না। মাত্র আনুমানিক ৩০ জন নারী নিকাব পরিধান করেন।

অবশ্য ধর্মীয় উপাসনালয় এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ করোনা থেকে রক্ষায় মাস্ক পরতে কোনো সমস্যা নেই। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

সূত্র : ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *