সুইডেন, ফিনল্যান্ডকে এরদোয়ানের হুমকি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড চুক্তি মেনে ৭৩ জনকে তুরস্কের হাতে না দিলে ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না।

ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। তারপরই হুমকি দিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, তুরস্ক যে ৭৩ জন ‘জঙ্গি’কে চাইছে, তাদের না দিলে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্য পদ পাওয়া এখনও বন্ধ করতে পারে তারা।

এরদোয়ান বলেছেন, সুইডেন তাদের হাতে ৭৩ জনকে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরা সকলেই হয় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি(পিকেকে) বা অ্যামেরিকা-প্রবাসী ধর্মীয় নেতা ফতেউল্লাহ গুলেনের সমর্থক। ফতেউল্লাহ ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পিছনে ছিলেন বলে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দাবি।

মাদ্রিদে ন্যাটোর শীর্ষবৈঠকের পর এরদোয়ান বলেছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সঙ্গে তুরস্কের দশ দফা চুক্তি হয়েছে। যা পুরোপুরি তাদের কূটনৈতিক সাফল্য। সন্ত্রাসবাদের বিপদ নিয়ে তাদের উদ্বেগ মেনে নিয়েছে দুই দেশ।

এরদোয়ান বলেছেন, যদি সুইডেন ও ফিনল্যান্ড এই চুক্তি থেকে পিছনে সরে যায়, তাহলে তুরস্কের পার্লামেন্ট এই চুক্তিকে অনুমোদন করবে না। তাহলে ওরাই বিপদে পড়বে। সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। না করলে, আমরাও চুক্তি পার্লামেন্টে পাঠাবো না।

গত মে মাসে এরদোয়ান জানিয়েছিলেন, তুরস্কের জাতীয় সুরক্ষার পক্ষে বিপজ্জনক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন চালিয়ে গেলে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সদস্য হতে দেবে না তুরস্ক।

সুইডেন জানিয়ে দিয়েছে, তুরস্কের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আইনি প্রক্রিয়া মেনে কাজ করতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া না মেনে কাউকে তুরস্কের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।

সুইডেনের বিচারমন্ত্রী বলেছেন, সুইডেনে স্বাধীন বিচারবিভাগ এই আইন রূপায়ণ করে। কোনো সুইডিশ নাগরিককে অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। যারা সুইডেনের নাগরিক নয়, অন্য দেশ চাইলে তাদের হাতে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা সুইডেনের আইন এবং ইউরোপীয় রীতি মেনেই।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অন্য দেশের হাতে কাউকে তুলে দিতে গেলে তাদেরও আইন মেনে এগোতে হয়। সেক্ষেত্রে নিজেদের আইন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা মাথায় রাখতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনীতিক কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না।

ডয়েচে ভেলেকে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেক্কা হাভিস্তো বলেছেন, তুরস্ক যাদের চাইছে, তাদের বিষয়ে দেশের আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি জানিয়েছেন, তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

তিনি বলেছেন, তুরস্কের সঙ্গে আমাদের তথ্য বিনিময় নিয়ে চুক্তি হয়েছে। সন্ত্রাসের প্রশ্নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। তুরস্কে সন্ত্রাস একটা প্রধান বিষয়। তাই এই চুক্তি আমাদের কাছে ভালো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *