স্বপ্ন পূরণ শরিফুলের, বিস্মিত ইমন

স্বপ্ন পূরণ শরিফুলের, বিস্মিত ইমন

স্বপ্ন পূরণ শরিফুলের, বিস্মিত ইমন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এমন একটা দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শরিফুল ইসলাম। জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা হবে, যেখানে থাকবে তার নাম। বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপজয়ী পেসারের অপেক্ষা ফুরালো সোমবার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রাথমিক ২৪ জনের ওয়ানডে দলে জায়গা হয়েছে বাঁহাতি পেসারের। শুধু শরিফুলই নন, এই দলে জায়গা পেয়েছেন তারই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থ পারভেজ হোসেন ইমনের। প্রাথমিক দলে ডাক পেয়ে বিস্ময়ের ঘোরে রয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

যুব দল থেকে দশ মাসের ভেতরেই বড়দের দলে তারা। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের রেণু ছড়িয়ে সাকিব-তামিমদের ড্রেসিংরুমে জায়গা করে নিয়েছেন। এবার সেখানে নিজেদের অবস্থান পাকা করতে চান। শরিফুল দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। তবে শেষ যুব বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেন তিনি। এরপর বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ও বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিজের ক্যারিশমা দেখিয়েছেন। টুর্নামেন্টের ১০ ম্যাচে শরিফুল শিকার করেন ১৬ উইকেট। বল হাতে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে জাতীয় দলের দরজা খুললো তার।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শরিফুল মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা ভালো লাগার মতোই একটা খবর। এই দিনটির জন্য এত কষ্ট করে আসছি। দারুণ এক অনুভূতি কাজ করছে। আমার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলে খেলার। এবার ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। চেষ্টা করবো যেন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারি।’

ইমন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি তুলে সবাইকে চমকে দেন। দ্রুততম সেঞ্চুরির ইনিংসটি দিয়ে তিনি এক লাফে জাতীয় দলে। হুট করে আসা সুযোগে বিস্মিত ইমন, ‘আমাকে কী কারণে ডাকা হলো.. সত্যিই এসব নিয়ে ভাবিনি। স্কোয়াডে আমরা নাম দেখে খুবই অবাক হয়েছি, বিস্মিত। এটা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। ভাবিনি এত দ্রুত ডাক আসবে।’

ইমন কিছুটা অবাক হলেও শরিফুল প্রত্যাশা করছিলেন ডাক পাওয়ার। তার মুখ থেকেই শুনুন বাকিটা, ‘দুটি টুর্নামেন্টে ভালো বোলিং করার পর কিছুটা আশায় ছিলাম যে ডাক পেতে পারি। দুটি টুর্নামেন্টে আমার ভালো যাওয়ার কারণেই ডাক পেলাম বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বাস তৈরি হয়েছে পারফর্ম করলে ডাক পাওয়া যাবে।’
পাশাপাশি কষ্টের মূল্যায়ন পাওয়ায় শরিফুলের আনন্দের শেষ নেই, ‘ভালো খেলার মূল্যায়ন পেলে সবারই ভালো লাগে। উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। ভালো করার চেষ্টা আরও বাড়তে থাকে। চূড়ান্ত দলে জায়গা হলে চেষ্টা করবো স্বাভাবিক খেলাটা খেলার।’

ইমনের ভাবনাও একই রকম, ‘যে কোনও পর্যায়েই ভালো করার স্বীকৃতি সবাইকে আনন্দ দেয়, সাহস বাড়ায়। এতে করে উদ্যম আরও বেড়ে যায়। প্রাথমিক দলে ডাক পেলাম, এরপর কী হবে, চূড়ান্ত দলে থাকবো কিনা; এসব নিয়ে ভাবছি না। দুটি অনুশীলন ম্যাচ থাকবে। আপাতত আমি এই দুটি ম্যাচের দিকে মনোযোগ রাখছি। এখানে ভালো করতে হবে।’

মঙ্গলবার থেকে ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট শুরু হবে। দুদিন ফিটনেস টেস্টের পর হবে কোভিড টেস্ট। ১০ জানুয়ারি থেকে হবে অনুশীলন। ওয়ানডের প্রাথমিক দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে আগামী ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি মিরপুরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত দল বাছাইয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। ১৬ জানুয়ারি ম্যাচের পর ১৭ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার কথা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *