স্বাধীনতাকামী বীর বাঙালির সেই অর্জন সার্থক হোক

স্বাধীনতাকামী বীর বাঙালির সেই অর্জন সার্থক হোক

অগ্নিঝরা মার্চ

স্বাধীনতাকামী বীর বাঙালির সেই অর্জন সার্থক হোক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বছর ঘুরে বার বার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় অগ্নিঝরা সেই মার্চ। আমরা পরাধীন ছিলাম। স্বাধীনতার জন্য নয়টি মাস এ দেশের দামাল ছেলেরা নিজেদের বুক পেতে দিয়ে লড়াই করেছে। এই অর্জন এখন পরতে পরতে কাজে লাগছে। বাঙালি জাতি আজ এক সার্থক জীবনের দ্বারগোড়ায়। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে সেই যুদ্ধে পাওয়া বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ইতোমধ্যেই প্রশংসায় ভাসছে।

আমরা জানি, বর্ষপরিক্রমায় প্রতিটি মাসে এমন কিছু দিবস আছে, যা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয়। আর অগ্নিঝরা মার্চ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই মার্চে রচিত হয়েছে এমন কিছু ইতিহাস, যা বাঙালির পরিচয়সূত্রে গেঁথে আছে। ১৯৭১ সালের এই মার্চে স্বাধীনতাকামী বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। মার্চের শুরু থেকেই সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, লড়াই করেই অধিকার আদায় করে নিতে হবে। ১৯৭১ সালের এই মাসের প্রতিটি দিন স্মরণযোগ্য। ১ মার্চ এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলেন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা দেশে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্রখচিত প্রথম জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। ৪ মার্চ জনগণের মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও শিল্পীরা। ৫ মার্চ টঙ্গীতে গুলিবর্ষণে চারজন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। ৬ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের ডাক দেন। জরুরি বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগ। ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাঙালিকে। ওই এক ভাষণেই দিকনির্দেশনা পায় দেশের জনগণ। বুঝে যায় অধিকার আদায় করে নিতে হবে। ১২ মার্চ কবি সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে মহিলা পরিষদের এক সভায় পাড়ায় পাড়ায় মহিলা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। ১৫ মার্চ ঢাকায় আসেন ইয়াহিয়া খান। মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। ২৩ মার্চ দেশব্যাপী প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। ২৫ মার্চের কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্বর ও হিংস্র পাকিস্তানি সেনারা। শুধু ঢাকায়ই হত্যা করে এক লাখের বেশি মানুষকে। গ্রেপ্তার করা হয় মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তবে গ্রেপ্তারের আগে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই মার্চে পালিত হতে যাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ।

মার্চের দ্বিতীয় দিনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার শপথ নিতে হবে। আমরা আশা করবো, সার্থক হবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। আশা পূরণ হবে বাঙলি ও বাংলাদেশী প্রতিটি মানুষের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *