পাথেয় রিপোর্ট : ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের নেতা মাওলানা বরকতুল্লাহ ভূপালির ১৬৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ভূপালে বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম এই সৈনিক প্রফেসর বরকতুল্লাহ ভূপালির (১৮৫৪-১৯৭২) ১৬৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ভূপালে আলোচনা সভায় গুণীজনরা বলেন, মাওলানা বরকতুল্লাহ ভূপালি সম্পর্কে সবার জানতে হবে, স্বাধীনতা আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ কীভাবে হয়েছিল, এমনকি তার বর্ণিল জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণা লাভ করা জরুরি।
বরকতুল্লাহ ভূপালিকে হিন্দুস্থানের রাষ্ট্রীয় সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, মাওলানা বরকতুল্লাহ ভূপালি আফগানিস্তানের অসামরিক সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এ ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। মধ্য প্রদেশ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনও উৎসাহ কিম্বা সভা-সেমিনারের আয়োজন উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ মেহমানরা এ ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
মাওলানা বরকতুল্লাহ ভূপালি এডুকেশন সোসাইটি’র প্রিন্সিপাল হাজী মুহাম্মদ বারুণ বলেন, আমাদের পরামর্শ হলো এখানকার ইউনিভার্সিটি এবং স্কুলে বরকতুল্লাহ ভূপালির উপর আলাদা ‘লেসন’ আনা হোক। যেন আমাদের বাচ্চা ও নওজোয়ানরা মাওলানা বরকতুল্লাহ ভূপালি ও তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে। তার জীবনী পড়ে উদ্দীপ্ত হয়।
অতিথি মেহমান ডক্টর সাইয়্যেদ ইফতেখার আলী বলেন, আমরা বরকতুল্লাহ ভূপালির জন্মদিন পালন করছি। কিন্তু আফসোস! তার সম্পর্কে আমাদের প্রজন্মের কেউ ঠিকঠাক জানি না। এমনকি ভূপালিরাও বরকতুল্লাহ ভূপালিকে চেনে না। তারা জানে না বরকতুল্লাহ ভূপালি কে ছিলেন?
মোটকথা, আমাদের বরকতুল্লাহ ভূপালিকে সঠিক সম্মান জানাতে হলে তার শিক্ষাকে জাতির সামনে তুলে নিয়ে আসতে হবে।
ভূজ ওপেন ইউনিভার্সিটি ভূপালের সাবেক চ্যান্সেলর প্রফেসর তারেক জাফর বলেন, আমাদের স্মরণ রাখতে হবে বরকতুল্লাহ ভূপালির মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যেন কখনোই আমরা ভূলে না যাই।
বুদ্ধিজীবি আরেফ মালেক বলেন, হিন্দুস্থান ও ভূপালের বাচ্চাদের সামনে মাওলানা ভূপালির কীর্তিনামা নিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের জানা উচিৎ বরকতুল্লাহ ভূপালি কে ছিলেন, তিনি কি কাজ করেছিলেন?
কথা সাহিত্যিক ইকবাল মাসউদ বলেন, বরকতুল্লাহ ভূপালির বর্ণাঢ্য জীবনকে আমাদের সন্তানদের সামনে নিয়ে আসার জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধে এই মনীষার জীবনী নিয়ে আলোকপাত করতে হবে।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সূত্র : নিউজ১৮ [উর্দু], ভারত
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


