স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি
দুদকের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি কী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে দুর্নীতি প্রতিরোধে মন্ত্রণালয়ের কাছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেয়া ২৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জানাতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য সচিব ও অধিদফতরের মহাপরিচালককে।
একইসঙ্গে রুল জারি করেন আদালত। রুলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে দুর্নীতির প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল ও ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়। রিট আবেদনে দুদকের সুপারিশের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি বন্ধে দুদকের ২৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আরজি জানানো হয়।
একইসঙ্গে ২৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট মো. আমিনুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল রিটটি করেছিলেন। এর আগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করে তা প্রতিহতের জন্য ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ২৫ দফা সুপারিশ পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিবেদনে দুর্নীতির উৎস হিসেবে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন খাত চিহ্নিত করা হয়। এসব উৎস বন্ধে দুদকের করা সুপারিশে বলা হয়, ‘ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ইজিপি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপন ও অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্থায়ী চিকিৎসক বা কর্মচারী ও কার্যনির্বাহী কমিটি ইত্যাদি রয়েছে কি-না, এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির নীতিমালা প্রণয়ন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম না লিখে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা; ইন্টার্নশিপ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা এবং বর্ধিত এক বছর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে থাকা বাধ্যতামূলক করা, চিকিৎসকদের (সরকারি/বেসরকারি) পদোন্নতির জন্য সরকারি ক্ষেত্রে পিএসসি এবং বেসরকারিদের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য) ও পিএসসির প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মতামত গ্রহণ, তথ্যবহুল সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন, মালামাল রিসিভ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৫ দফা সুপারিশসম্বলিত ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে গত ৫ জুন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধে সহজ হবে।


