স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির বীজ পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দুর্নীতির ঘোড়া যেনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পিছু ছাড়ছেই না। তেজোদ্দীপ্ত ছুটে চলেছে দুর্নীতির অশ্ব। একে থামাতে হবে। দুর্নীতি কোন খাতে হচ্ছে না! রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি খাত দুর্নীতিগ্রস্ত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরনো ভবন নিয়েই যত কথা। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই জানে, দুর্নীতির ঘাঁটি হিসেবে এই ভবনের পরিচিতি। সময়ের সঙ্গে অনেক প্রক্রিয়ার বদল হয়েছে, কিন্তু বদলায়নি দুর্নীতির প্রবণতা। এখনো দুর্নীতির কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে পুরনো ভবনটি, যার তলায় তলায় দুর্নীতি। এ ভবনের বেশির ভাগ কক্ষে কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতি চলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কারিগর বলে পরিচিত আফজাল বা সদ্য ধৃত গাড়িচালক মালেক—সবার ঘাঁটি ছিল এ ভবনেই।
জানা যায়, গত কয়েক বছরে অনেক ধরনের অদলবদল ঘটেছে, কিন্তু দুর্নীতি রয়ে গেছে আগের মতোই। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুসন্ধান ও আটকের ঘটনার মধ্য দিয়ে দুর্নীতির কিছু খবর প্রকাশিত হয় মাত্র। ভেতরে ভেতরে প্রচুর দুর্নীতির ঘটনা ঘটে এখনো। চালাক-চতুর, কৌশলী লোকজন ঠিকই টিকে যাচ্ছে; তারা চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি। এসব দুর্নীতির সঙ্গে অধিদপ্তরের বড় কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন এবং এখনো আছেন। আবার কেউ কেউ গদি ঠিক রাখার জন্য নিজে জড়িত না থাকলেও প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। কেউ দুর্নীতি করেন কেনাকাটায়, কেউ করেন নিয়োগ ও বদলিতে, আর কেউ দুর্নীতি করেন বিভিন্ন কর্মসূচি বা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ, সচেতনতা কিংবা গবেষণা কার্যক্রমে। চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন, পদোন্নতি-পেনশন বিষয়ক ফাইল নিয়েও ব্যাপক দুর্নীতি হয়। কর্মকর্তাদের গাড়ি বা সরকারি বাসভবন পাওয়া নিয়েও দুর্নীতি হয়।
প্রায় ২৫ বছরে পাঁচটি সরকার এসেছে- গেছে। এ সময়ে তিন-চারজন মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। অন্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জোরালো অভিযোগ ছিল না বটে, তবে তাঁরা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন। দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত থাকার সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে সাবেক একজন মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে, যিনি গাড়িচালক মালেককে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিয়েছিলেন। আরো কয়েকজন সাবেক মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিচালক, উপপরিচালক, কর্মসূচি ব্যবস্থাপক, কর্মসূচি উপব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথিতে সব প্রমাণ আছে। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কত অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি রয়েছে তা করোনাকালে দেশবাসীকে ভিন্নরকম ম্যাসেজ দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির বীজ অনুসন্ধান করে দ্রুত আগাছা পরিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।


