হজ-ওমরায় ভিসা ফি কমানোয় সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজকে আল্লামা মাসঊদের অভিনন্দন

হজ-ওমরায় ভিসা ফি কমানোয় সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজকে আল্লামা মাসঊদের অভিনন্দন

পাথেয় রিপোর্ট : হজ এবং ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা ফি কমানোয় সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, পবিত্র হজ ইসলামের মহান একটি রূকন। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে পরিষ্কার ভাষায় সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর উপরে জীবনে একবার এ মহান ইবাদতটি ফরজ করে দিয়েছেন। আর উমরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। শুধু হজের দিনগুলো ছাড়া বছরের বাকি সময়গুলোতে উমরা করা যায়। বিশেষ করে রমজানের সময় উমরার ফজিলত অনেক বেশি।

শনিবার (১৪ সেপাটেম্বর) গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে এ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনবার্তায় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, হজ ও ওমরা পালনে মুসলমানদের আগমনকে আরো সহজ করতে সৌদি বাদশাহ সালমানের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সৌদি মন্ত্রিসভায় গৃহীত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হজ এবং ওমরাযাত্রীদের ভিসার ফি দুই হাজার সৌদি রিয়াল থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০০ রিয়াল নির্ধারণ করায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রসঙ্গত, হজ এবং ওমরা যাত্রীদের ভিসা ফি কমিয়েছে সৌদি সরকার। এর পাশাপাশি দেশটিতে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদেরও এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

সৌদি আরবে ওমরা ভিসা প্রদানের শর্ত শিথিল তথা জরিমানা না নেয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানা গেছে। এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই ছিল জিজ্ঞাসা যে, সত্যিই কি সৌদি কর্তৃপক্ষ ওমরা পালনকারীদের জরিমানা মওকুফ করবে কি-না। এ সিদ্ধান্তটি এখন অনেকটাই নিশ্চিত, যা কার্যকর করা বাকি রয়েছে।

সৌদি গেজেটের তথ্য মতে সৌদি আরব দেশটিতে যে কোনো ধরনের ভিসা ফি কমানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভাব্য ভিসা ফির একটি তালিকাও প্রণয়ন করেছে দেশটি। আর তাতেই উঠে এসেছে ভিসার ফি, ভিসার মেয়াদ, অবস্থানের মেয়াদসহ বিভিন্ন বিষয়।

অন্য দেশের কোনো নাগরিক একবার ওমরা পালন করলে পরবর্তী ৩ বছর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ওমরা করা সম্ভব ছিল না। যদি কেউ এ সময়ের মধ্যে ওমরাহ করতেন তাকে ২০০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা দেয়া সাপেক্ষে ভিসা নিতে হতো। এ জরিমানা নেয়া থেকে ফিরে এসেছে দেশটি।

– ভিজিট বা ভ্রমণ ভিসা
ওমরা পালন, ভ্রমণ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোও ভিজিট ভিসার আওতায় থাকবে। এ ভিসার জন্য ৩০০ রিয়াল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ভিসায় রয়েছে ২ ধরনের সুযোগ। সিঙ্গেল এন্ট্রি, যার মেয়াদ ৩ মাস। এ ভিসায় দর্শনার্থী সৌদিতে ১ মাস অবস্থান করতে পারবে। আর মাল্টিপল এন্ট্রি, যার মেয়াদ ১ বছর। এ ভিসায় সৌদিতে অবস্থান করা যাবে ৩ মাস।

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ কত তারিখ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাস থেকেই নতুন ভিসা ফি কার্যকর হতে পারে। আর এতে বাংলাদেশিসহ সব দেশের নাগরিকরাই আগের চেয়ে কম খরচে সৌদি ভ্রমণ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে, ‘ভিশন টু জিরো থ্রি জিরো’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সৌদি আরবের গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *