হম্বিতম্বি নয় মাহফিলে ইসলাহী আলোচনা করুন

হম্বিতম্বি নয় মাহফিলে ইসলাহী আলোচনা করুন

হম্বিতম্বি নয় মাহফিলে ইসলাহী আলোচনা করুন

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

ওয়াজের ময়দানকে বিতর্ক মুক্ত রাখতে অবস্থার আলোকে, পরিবেশ- পরিস্থিতি লক্ষ্য করে, মানুষকে ইসলাহী – আত্মশুদ্ধিমূলক আলোচনাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা দেশের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যে সব আলেমগণ বিচরণ করেন। যাদের সারা দেশের মানুষ অনুসরণ করে থাকেন, তাদের উচিত ওয়াজের ধারা বদলে দেওয়া।

ওয়াজের স্টেজে বসে আর হাম-তাম করা নয়, হম্বতম্বি নয়। কাউকে সরাসরি আক্রমণ করা ঠিক নয়। কারো নাম উল্লেখ করে, তাকে তুলোধুনো করাও সমীচিন মনে করিনি।

দেখা যায়,কিছু কিছু ওয়ায়েজ তারা ওয়াজের ষ্টেজকে বেছে নিয়েছেন নিজেদের ক্ষোভ ঝাড়ার জায়গা। যত ক্ষোভ ঝাড়েন ওয়াজ করতে এসে। আর কোথাও যেন তাদের জায়গা হয়না। শুধু ওয়াজের মঞ্চে চলে তাদের যত কথা। এর দ্বারা কি লাভ আর কি ক্ষতি হয়েছে আমাদের। সেটাতো দেখতেই পাচ্ছি। শুধু কিছু বক্তাদের বাড়াবাড়ির কারণে ওয়াজ মাহফিলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। আগেরমত মাহফিল হচ্ছে না। প্রায় আটআনা মাহফিল এবার নেই।

রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রীক বক্তাদের আজকাল ফলো করে সারা বাংলাদেশের ওয়ায়েজগণ। ওনারা যে ধাঁচে কথা বলেন, ঠিক অন্যরাও সেটা গ্রহণ করে। এজন্য ঢাকা কেন্দ্রীক আলেম এবং বক্তা ভাইদের হিসাব করে কথা বলা চাই।

ওয়াজের ময়দানে যদি কোন বিতর্কিত কথা না আসত, তাহলে কিন্তু এই পরিবেশ হতনা। ওনারা একটু কৌশলে চললে তাহলে সকলেই ঐ তরিকা গ্রহণ করত। কিন্তু সেই কৌশলী ওনারা হতে পারেন নি।
এখনো কিছু বক্তার যেন পরিবর্তন আসেনি। একটু সুযোগ পেলেই ঝেড়ে দেন। কোথাও কথা বলার চান্স পেলে হয়, তাহলে একদম মনের মত ঝাড়তে থাকেন।

আল্লাহর ওয়াস্তে অনুরোধ আপনাদের প্রতি। আর বিতর্কিত করবেন না ওয়াজ মাহফিলকে। দ্বীনি মাহফিলকে বিতর্কের উর্ধে রাখুন। আমরা বহু বুজুর্গের ওয়াজ শুনেছি। তারা ওয়াজ করে গেছেন যুগ যুগ ধরে। কিন্তু কোন কথা হয়নি। আমরা ওয়াজ শুনেছি, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মেসবাহ সাহেব রহ,, শুনেছি মোস্তফা আল হোসাইনী রহ, এর ওয়াজ, শুনেছি মাওলানা আব্দুল হক আব্বাসী রহ, এর তাফসীর। কোনদিন তাদের সম্পর্কে কথা হয়নি।

আলেমদের মধ্যে ওয়াজ শুনেছি, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ, আল্লামা কাজী মু’ তাসিম বিল্লাহ রহ, মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমী রহ, মুফতী আমিনী রহ, মাওলানা আব্দুল গাফফার রহ, মাওলানা আমিনুল ইসলাম রহ,মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ এরকম বহু আলেমের ওয়াজ শুনেছি।
পীর সাহেবদের মধ্যে চরমোনাই এর মরহুম সৈয়দ ফজলুল করীম রহ, ফুফুরার পীর আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী রহ, এরকম বহু পীরের ওয়াজ আমরা মন ভরে শুনেছি।

কিন্তু ওয়াজ মাহফিল নিয়ে কথা হয়নি। কোন সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়নি। কিন্তু হালজামানায় বক্তাদের কি হল? শুধু সমালোচনা।মঞ্চে ফ্লোর পেলে কাউকে ছাড়েন না।
আগের বক্তাগণ ইসলাহী কথা বেশী বলেছেন। এজন্য সমালোচনা কম হয়েছে। ফায়দা বেশী হয়েছে। ঠিক সেরকম কথা বলা দরকার।

এখনো বক্তারা ইসলাহী কথা বলেন না তা নয়।মাঝে মাঝে ময়দান গরম করেন কেউ কেউ। কিন্তু অবস্হার আলোকে ময়দান গরম ওয়াজ আপাতত বন্ধ রাখা দরকার। পরিবেশ – পরিস্হিতি অনুযায়ী ওয়াজ করতে হবে।

হেকমত – কৌশল এবং মাওয়ায়েজে হাসানা দ্বারা ওয়াজ করতে বলা হয়েছে।যেটা সুস্পষ্ট কুরআনের কথা। মিষ্টি কথা দ্বারা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করতে হবে। কিন্তু আমাদের কিছু কিছু ওয়ায়েজীন ভায়েরা কি ভুলে গেলেন?

এখন ওয়াজ হল , বক্তা মঞ্চে বসে বলে, কথা ঠিক——-। আর স্রোতারা সবাই ঠিক বলেন। অনেক সময় বেঠিক কথাকেও আমরা বলি, ঠিক কিনা বলেন—–। বেচারা স্রোতারা আর কি করবে। সবাই বলতে বাধ্য হয় হুজুর ঠিক আছে।

একটা মাহফিলে সব ধরনের স্রোতা থাকে। সব দলের লোক জমা হয়। তালে তালে ঠিক বললেও,সে কিন্তু পরে কথাগুলো মেলাতে থাকে। বক্তা কোন আপত্তিকর কথা বললে, পরবর্তিতে সে স্রোতা মেলাতে থাকে। হুজুরের কথা সঠিক কিনা।

তবে কিছু বক্তাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারিনা। তারা কিন্তু ভাল বয়ান করেন। এটা অবশ্য আমার ব্যক্তিগত অভিমত। মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ সাহেব মনেহয় হাজারে একজন। যেমন তিনি আলেম আবার তিনি তুখোড় ওয়ায়েজ।হৃদয় ছোঁয়া বয়ান।

আইয়ুবী সাহেব, হাসান জামিল সাহেব, এঁদের কিছু ইসলাহী বয়ান আছে যেটা মানুষকে পাগল করে ফেলে। আর কুয়াকাটার হাফিজুর সাহেব তো বে- মেছাল। তাঁর প্রতিটি বয়ান যেন ইসলাহী। চরমোনাই এর আমীর এবং নায়েবে আমীর সাহেবানদের ওয়াজ মাহফিলের তুলনা চলে না। তাঁদের হৃদয় নিংড়ানো কথাগুণো মানুষের মন জয় করে চলেছে। আরো নাম না জানা বক্তা আছেন, ইসলাহী ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন। সকলের জন্য দুআ রইল। এগিয়ে যান। তবে যারা ওয়াজ মাহফিলকে বিতর্ক করছেন, অবশ্যই সতর্ক হবেন আশাকরি। আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *