হযরত ইউসুফ আ.-এর থিউরি ও আমাদের করণীয়

হযরত ইউসুফ আ.-এর থিউরি ও আমাদের করণীয়

হযরত ইউসুফ আ.-এর থিউরি ও আমাদের করণীয়

মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ আমাদের বাঙালিদের মাঝে লোক দেখানো অভ্যেসটা অনেক বেশি। যেখানে এক কেজি মিষ্টি কিনলে কাজ চলে যায় সেখানে আবু তালেবি থিউরি ‘লোকে কি বলবে’ সামনে রেখে দুই কেজি কিনে ফেলি।

আমি খুব কাছ থেকে ভারতীয়দের জীবনাচার দেখেছি। প্রয়োজনের বাহিরে একটি কানাকড়ি খরচ করতে তারা নারাজ। নিশ্চয় এক্ষেত্রে তারা প্রশংসার দাবীদার। করোনার এই সংকটে অতীতের কথা ভুলে এখন আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া শুধু আবশ্যক নয় বরং অত্যাবশ্যক।

বছরে মাত্র একটা বড় ঈদ সুতরাং দেদারসে পয়সাপাতি খরচ না করলে ঈদ পানসে পানসে লাগে। এ বছরের ঈদ পানসেই হোক। বেঁচে থাকলে, অর্থনীতির অবস্থা ভাল হলে আবার জম্পেশ ঈদ করা যাবে ইনশাআল্লাহ। মনে রাখবেন, আপনার একা ভাল থাকা প্রকৃত ভাল থাকা নয়।

সকল মুসলমান এক দেহের মত। স্বার্থপরের মতো নিজেকে নিয়ে ভাবলে হবে গোটা সমাজকে নিয়েই ভাবতে হবে। আলিশান প্রাসাদে থেকে আপনি কোরমা পোলাওয়ের বন্যা বসিয়ে দিবেন আর আপনার প্রতিবেশী অভাবের তাড়নায় ঈদের দিনেও চোখের জলে বুক ভাসাবে? তা হবে না! তা হবে না!

আল্লাহ না করুন এভাবে আর এক মাস চলতে থাকলে চোখে দুর্ভিক্ষের ছায়া ভাসবে।

যদি এমন আপনি করে ফেলেন তাহলে হতে পারে আপনার রাজকীয় পরিবারের সব সদস্যকে করোনা জাপ্টে ধরে ফেলেছে। সুতরাং সময় থাকতে লাইনে আসুন, প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে সচেতন হোন, এই ঈদে বাড়তি খরচ থেকে বিরত থাকুন। করোনায় দিন দিন দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। আল্লাহ না করুন এভাবে আর এক মাস চলতে থাকলে চোখে দুর্ভিক্ষের ছায়া ভাসবে।

সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ভাবনা এখন থেকেই আমাদের সম্মিলিত ভাবে করতে হবে। এক্ষেত্রে হযরত ইউসুফ আ. এর থিওরি সবচাইতে বেশি কার্যকর বলে আমার ধারণা।

কি সেই থিউরি?

একবার মিশরের বাদশাহ স্বপ্নে দেখলন সাতটা মোটাতাজা গাভীকে দূর্বল সাতটি গাভী খেয়ে ফেলছে অনুরূপ সাতটি সতেজ শীষকে শুকনো শীষ। ঘুম থেকে উঠেই বাদশাহ অধিবেশন ডাকলেন তার দেখা বিষ্ময়কর স্বপ্নের সমাধান কল্পে।

সবাই যখন অপারগ হয়ে গেল স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে তখন সবাই দ্বারস্থ হলো হযরত ইউসুফ আ. এর। ইউসুফ আ. বললেন, দেশে বিরাট দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। মেয়াদ হবে সাত বছর। সেই দুর্ভিক্ষ আসার আগের সাত বছর তোমাদের বাম্পার ফলন হবে। দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচতে সেই ফলন থেকে কম কম খরচ করে বাকি শস্য গুদামজাত করবে। তবেই তোমরা দুর্ভিক্ষের দিনেও আরামে থাকতে পারবে।

প্রিয় পাঠক! আজ যদি আমরা হযরত ইউসুফ আ. এর এই থিউরিকে সামনে রেখে চলি তাহলেও আমরা বেঁচে যেতে পারব ভয়াবহ অবস্থা থেকে। সুতরাং আসুন প্রতিজ্ঞা করি, এই ঈদে বাড়তি খরচ থেকে বিরত থাকব। নিজে ভাল থেকে অপরকে ভাল রাখব।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *