পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানী দিল্লীর গড়গায়ে বন্ধ করে দেয়া মদীনা মসজিদ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। নিপীড়িত মুসলমানরা তাদের ইবাদতের জায়গা ফিরিয়ে আনতে ক্রমাগত শান্তিপূর্ণ অান্দোলন করে যাচ্ছে। অনুমাণ করা হচ্ছে মুসলমানদের সঙ্গে এমন আচরণের পেছনে কাজ করছে জাতিগত বিভেদ। উগ্রবাদী হিন্দুদের চাপেই সংখ্যালঘু মুসলমানদের এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি ডেপুটি কর্পোরেশন অফিসারের নির্দেশের পরেও মদীনা মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে না। দায়িত্বশীলরা একে অপরের দিক দায়িত্ব হস্তান্তর করে বারবার মুসলমানদের সঙ্গে একরকম ছেলেখেলা শুরু করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনার বলে আখ্যায়িত করেছে ভারতী নেতারা। কোনও একটি জাতীর উপাসনা নিয়ে এমন আচরণ সমাজ থেকে মনুষ্যত্ব বিলীন হওয়ারই উদহারণ এবং এরদ্বারা এটিই স্পষ্ট হয় বহু জাতের ভারতে মুসলমানরা এখনো সর্বাংশে নিরাপদ নয়।
এদিকে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী গড়গাঁয়ে মুসলমানদের ইবাদতগাহ মদিনা মসজিদ খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মদিনা মসজিদ খোলাসংক্রান্ত বিষয়ে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লালের প্রতি একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, খুব দ্রুত মসজিদকে নামাজের জন্য খুলে দেয়ার নির্দেশ জারি করুন। এবং মসজিদে ইবাদত শুরু করার সুযোগ করে দিন।
একতরফা শাসনের সমালোচনা করে মাওলানা মাহমুদ মাদানী চিঠিতে লিখেন, একতরফা বিচারব্যবস্থায় সমাজে দুর্বল মানুষদের মধ্যে প্রচণ্ডরকম হতাশার সৃষ্টি হয়। বিশেষত মসজিদের বিষয়টি মুসলমানদের বুনিয়াদি অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণেই তা সারাদেশে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মুসলিম সংখ্যােলঘুদের মধ্যেও জাতিগত চিন্তা ও অভিমান তৈরী হয়েছে।
চিঠিতে মাওলানা মাদানী হরিয়ানার মনোহর লালকে সম্বোধন করে বলেন, খুব দ্রুতই মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বুনিয়াদী ইবাদতের জায়গাকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আদায় করার সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে এবং সবধরনের ফেতনা ও বিশৃঙ্খলাকে দূর করতে হবে।
সেইসাথে মুসলমানদের ধৈর্যের সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, মসজিদ রক্ষার জন্য আইনী লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষভাবে মহান আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে।
সূত্র বলছে, বেশ কিছু দিন ধরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠী মদীনা মসজিদকে কেন্দ্র করে নানান ঝামেলা করে আসছিলো। প্রথমে লাউড স্পিকারের কথা তুলে বিবাদে জড়াতে চায়। অধিবাসী মুসলিমরা তখন তা এড়িয়ে যায় এবং তাদের অভিযোগ মতে মসজিদের প্রয়োজনীয় লাউড স্পীকারটি বন্ধ করে দেয়। কিন্ত এরপরও হঠাৎ করেই তারা মসজিদে এসে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে মুসলমানরা তাদের অধিকার আদায় এবং ইবাদতের জায়গা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্নভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে থাকে। তদন্ত বলছে, এখানে উগ্রবাদী হিন্দুদের উদ্দেশ্যই ছিলো যে কেনাওভাবে একটি দাঙ্গার সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের প্রতিও অভিযোগ তুলেছে মুসলিম বাসিন্দারা। তারা বলছে, এখানে মুসলমানদের সাথে আইনের বে-আইনি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তদের প্রতি একপ্রকার অত্যাচার করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসন এখানে একদম চোখ বন্ধ করে রেখেছে। তারা যেনা কিছু্ই দেখছে না। মাস্টার খালেদ সাইফি এবং নাদিম খান বলেন, স্পষ্টই এখানে একটি বিভক্তি কাজ করছে। এখন আমাদের ভয় শুধু ধর্মীয় বিভেদই নয়। বরং প্রশাসন থেকেও আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারি নি।
মসজিদ কমিটি পরিচালনার সদস্য মুমতাজ অালি বলেন, যে অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদের জায়গা নিয়ে তারা এমন সব কর্মকাণ্ড করছে। তাহলে একই অভিযোগ তাদের মন্দির, গির্জা এবং চার্চের ব্যপারে আসে। কিন্ত এ নিয়ে তো সামান্য আওয়াজও নেই।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র: ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


