নিজস্ব প্রতিবেদক ● প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার সঙ্গেই তাঁর সরকার দুর্গতদের পুনর্বাসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে সকল মন্ত্রণালয়গুলোও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা কোন নতুন কিছু নয়, কিন্তুু বন্যায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকারকে তৎপর থাকতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনাদের এখানে যেটাকে হাওর বলে আমাদের গোপালগঞ্জে সেটাই বাওর, কাজেই একজন হাওর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমার জানা রয়েছে- এই বন্যায় আপনাদেরকে কি রকম দুঃখ কষ্ট পোহাতে হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা কমিয়ে আনতে যত রকমের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন সরকার সবকিছু করবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় কৃষকদের শুধুমাত্র ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল না থেকে তাদের পেশার বহুমুখিকরণের মাধ্যমে পিসি কালচার, হর্টিকালচার এবং ডেইরী ও পোল্ট্রী শিল্পের প্রতি ঝোঁকার জন্য আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী হাওর এলাকায় বোরো ধানের পাশাপাশি মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু এক ফসলের ওপর (বোরো চাষ) নির্ভরশীল না থেকে ডাল, সরিষা এবং সবজি চাষের দিকেও কৃষকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, নেত্রকোনার জনগণকে বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বাঁধ তৈরি ও সংস্কার করার উদ্যোগ নেবে সরকার। তাছাড়া এই হাওর এলাকার সমস্ত নদী গুলো পুণঃখননের উদ্যোগ নেয়া হবে। যাতে করে নদীগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ নাব্যতা বজায় রাখতে পারে।
সরকার প্রধান বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অতি দরিদ্রদের মাঝে ভিজিডি এবং ভিজিএফ’র মাধ্যমে খাদ্য সরবারাহ জোরদার করেছে এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিও চালু রেখেছে।
হাওর এলাকার স¤া¢বনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার হাওর এলাকার জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনা জেলার গৃহহীনদের তালিকা তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিযে বলেছেন, সরকার প্রত্যেক গৃহহীনকে পূনর্বাসন করবে।
তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের বিদ্যালয়গামী শিশুদের কল্যাণে তাঁর সরকার আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিবে।
কৃষকদের জন্য গৃহীত নানা কল্যাণমুখী পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরই তাঁর সরকার বর্গাচাষিদের জন্য বিনা জামানতে কৃষিঋণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তিনি বলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং কৃষিকার্ডের মাধ্যমে সুলভমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে ২ কোটি ৮লাখ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করেছে।
একইসঙ্গে ৯৭ লাখ ৩১ হাজার কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে। যেখান থেকে সরকার প্রদত্ত ভর্তুকির টাকা কৃষকরা সরাসরি তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।


