নিজস্ব প্রতিবেদক ● সুনামগঞ্জের হাওরে ২৮টি বাঁধ নির্মাণ না করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়ার পর তার অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই দুর্নীতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের কার কী ভূমিকা, তার খুঁজে বের করতে বৃহস্পতিবার একটি কমিটি গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। অসময়ে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ হাওর এখন ডুবে আছে। তলিয়ে গেছে বোরো ধান। হাওরের বাঁধগুলো মেরামত ও নতুন নির্মাণে দুর্নীতির কারণেই এই ফসলহানি বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রণব ভট্টাচার্য্য বলেন, গত দুই বছরে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে হাওরের ২৮টি বাঁধ নির্মাণের জন্য ১১৬টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও অন্যান্যরা ঠিকাদারদের যোগসাজশে কোনো কাজ না করেই দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহিম ও সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি। এছাড়া দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামানকে অনুসন্ধান তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
গত ১০ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তিন প্রকৌশলীর দুর্নীতিতে কৃষকের সর্বনাশ শিরোনামে সংবাদ দেখার পর দুদক এ অনুসন্ধানে নেমেছে বলে জানান প্রণব ভট্টাচার্য্য। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই বছরে ৮০ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে তিন প্রকৌশলীর সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ১১৬টি প্যাকেজের কাজে ঠিকাদাররা কোথাও ২০ ভাগের বেশি কাজ করেনি। অথচ গত দুই বছরে তারা ১৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঠিকাদাররা কাজ পেতে ৫ শতাংশ এবং বিল ছাড় করাতে ১৫ শতাংশ অর্থ ঘুষ দিয়েছেন প্রকৌশলীদের।
হাওর অ্যাডভোকেসি নামে একটি সংগঠন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানায়, এবার সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে এক লাখ ৭১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই এক লাখ ৩০ হাজার হেক্টর ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।


